২০২৬ সালের এপ্রিলে এসে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বোরো ক্ষেত এখন ধুধু মরুভূমি। তেলের জন্য ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে দুপুরে খালি হাতে ফিরছেন কৃষক। জমির মাটি ফেটে চৌচির, পানির অভাবে মাঠেই মরছে সোনালি স্বপ্ন। তিন দিন ধরে অকটেনের অভাবে বন্ধ পাহাড়ের জীবনরেখা ‘স্পিডবোট’। ট্রাকে তরমুজ নিয়ে চট্টগ্রাম যেতে পারছেন না চালক।
রাঙামাটির এই দৃশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছে বিএনপির সেই পুরোনো আমলকে, যখন বিদ্যুতের দাবিতে কানসাটে কৃষকদের রক্ত ঝরানো হয়েছিল।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যারা ‘৫০০ টাকায় গরুর মাংস’ আর ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিয়ে রাজপথ কাঁপিয়েছিল, দেশকে বেহেশত বানানোর স্বপ্ন ফেরি করেছিল আজ সেই ‘ইনকিলাবের পুত্র-কন্যাদের’ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
যারা সেদিন বিদেশি মদতে এবং উগ্রপন্থীদের কাঁধে ভর করে একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ড. ইউনূসের ‘অ-সরকারকে’ ক্ষমতায় বসিয়েছিল, আজ তারাই নিজ বাইকের তেলের জন্য ভোরে লাইনে দাঁড়িয়ে বেলা ১১টায় খালি হাতে ফিরছে। গরুর মাংস তো দূরের কথা, দুই লিটার ডিজেল এখন সোনার হরিণ।
ড. ইউনূসের ১৬ মাসের শাসনামল বাংলাদেশের অর্থনীতির যে মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়ে গেছে, তার মাশুল এখন দিচ্ছে সাধারণ মানুষ।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি ক্ষমতায় এলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বরং সপ্তাহে তিন দিন মাত্র দুই ঘণ্টার জন্য ডিজেল বিক্রির অদ্ভুত নিয়ম করে কৃষকের ‘জমির তেষ্টা’ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। বরকল থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নৌকা চালিয়ে আসা সোহেল চাকমাদের মতো কৃষকরা আজ দিশেহারা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাজানো-গোছানো দেশটাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে ‘সুদী মহাজন’ বিদায় নিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে বিএনপি সরকারও কৃষককে এক টিন কেরোসিন দেওয়ার সক্ষমতা দেখাতে পারছে না।
৫ আগস্টের পর থেকে শুরু হওয়া এই বিনাশী প্রক্রিয়া এখন রাঙামাটির পাহাড় থেকে সমতলে হাহাকার ছড়িয়ে দিচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি কানসাটের সেই বিভীষিকা আবার ফিরে আসছে রাঙামাটির তেলের লাইনে?
