পর্যটন নগরী কক্সবাজারে হামের সংক্রমণ এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে, অথচ রাজধানীর নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নেই কোনো বিকার। গত আড়াই মাসে প্রায় ৯ হাজার শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে এবং গত তিন দিনেই প্রাণ হারিয়েছে ৪টি শিশু। কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে বর্তমানে ৩১ জন শিশু ভর্তি থাকলেও নেই কোনো আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড। ‘পরিকল্পনা আছে’ এমন দায়সারা বুলিতেই সীমাবদ্ধ স্থানীয় প্রশাসন, আর ঢাকা থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের আচরণ যেন ‘এ দেশে কিছুই ঘটছে না’।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারের এই উদাসীনতাকে ‘রাষ্ট্রীয় অবহেলা’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। জনমতের তোয়াক্কা না করে গঠিত এই মন্ত্রিসভার কাছে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা গৌণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশি জনবসতিতে হামের এই ভয়াবহ বিস্তার মোকাবিলায় এখন পর্যন্ত কোনো জাতীয় টিকাদান অভিযান বা জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা জারি করা হয়নি।
চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি বায়ুবাহিত রোগ যা কোনো সীমানা মানে না। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের গণ্ডি পেরিয়ে এটি এখন স্থানীয় বাংলাদেশি শিশুদের জীবনেও মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ সরকার এই মহামারির প্রকৃত পরিসংখ্যান লুকানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলো তথ্যের চাপে হিমশিম খেলেও জাতীয় পর্যায় থেকে কোনো বাড়তি চিকিৎসক বা ওষুধ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে সরকারের ভিত্তি জনগণের ভোটে নয়, তাদের কাছে জনস্বাস্থ্য একটি মানবিক দায়িত্বের চেয়ে রাজনৈতিক হিসাবের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। কক্সবাজারের সাধারণ মানুষের আতঙ্ক কিংবা শিশুদের মৃত্যু তাদের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে না বলেই আজ এই ভয়াবহ নীরবতা। বৈধতা সংকটে থাকা এই সরকারের আমলে স্বাস্থ্যখাতের এই বিপর্যয় আগামীর জন্য এক অশনিসংকেত।
