নিজস্ব প্রতিনিধি
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস কর্তৃক কোনো প্রকার নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের গণহারে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে তৃণমূলে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কেবল একটি বিশেষ অধ্যাদেশের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে ‘অগণতান্ত্রিক’ ও ‘স্বৈরাচারী’ আচরণ বলে অভিহিত করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষ।
সুপ্রিম কোর্ট এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ইতিবাচক নির্দেশনা থাকার পরও বহু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে দিচ্ছে না বর্তমান প্রশাসন। এতে কেবল জনপ্রতিনিধিরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, বরং থমকে গেছে স্থানীয় উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের জরুরি সেবা কার্যক্রম। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই একপাক্ষিক সিদ্ধান্তের ফলে জনমনে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এই সংকটাপন্ন পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ৬নং বোকাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আল-মুক্তাদির শাহীনের একটি সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্টে। সেখানে তিনি বর্তমান সরকারের শাসনামলে আইনের শাসন ও সুশাসনের অভাব নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন।
চেয়ারম্যান শাহীন তার পোস্টে লিখেছেন,
“প্রিয় বোকাইনগরবাসী আসসালামু আলাইকুম, আমি আপনাদের ভোটে নির্বাচিত গেজেটেড চেয়ারম্যান হওয়া সত্ত্বেও আইনের শাসন বা সুশাসন না থাকায়, আপামর জনসাধারণের জন্য কল্যাণকর সরকার না থাকায়, সুপ্রিম কোর্ট ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা থাকার পরও আমাকে কার্যক্রম করতে দিচ্ছে না বর্তমান সরকার বা প্রশাসন।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দল-মত নির্বিশেষে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত হয়ে আড়াই বছর সফলভাবে দায়িত্ব পালন করলেও গত ২০ মাস ধরে একটি ‘স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহল’ তাকে অন্যায়ভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রেখেছে।
দায়িত্ব পালনের সুযোগ বঞ্চিত এই জনপ্রতিনিধি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বোকাইনগরবাসীর কাছে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে লিখেছেন,
“জীবন ক্ষণস্থায়ী, নিঃশ্বাসের কোনো বিশ্বাস নাই। তাই আমার দায়িত্ব পালন সময়ে বোকাইনগরবাসীসহ কেউ যদি কোনো প্রকার অন্যায়, জুলুম, নিপীড়ন বা অন্য কোনো প্রকার ক্ষতির শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে কমেন্টে, মেসেজে, ফোনে বা সরাসরি জানানোর জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।”
তৃণমূলের মানুষের মতে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার সংস্কারের নামে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণ করে গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করে দিচ্ছে। যেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জনগণের কাছে জবাবদিহিতা থাকে, সেখানে অনির্বাচিত প্রশাসকদের দিয়ে স্থানীয় সরকার পরিচালনা করায় জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
নেটিজেন এবং সাধারণ মানুষের দাবি, এই ‘অগণতান্ত্রিক’ অধ্যাদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাজে ফেরার পরিবেশ তৈরি করা হোক, অন্যথায় দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
