নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর নামে ‘অ্যামেক্স অ্যাসোসিয়েটস’ নামক একটি কনসালট্যান্সি ফার্মের বিরুদ্ধে প্রায় ৭ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ভয়াবহ প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এই জালিয়াতি চক্রের নেপথ্যে রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত এক নেতা এবং মহানগর ছাত্রদলের এক সদস্য।
সিলেট নগরের উপশহরের সি-ব্লকের একটি বহুতল ভবনে প্রধান কার্যালয় খুলে বসা এই চক্রটি ‘ফ্যামেক্স’ ও ‘ট্যাক্সকম’ নামে আরও দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান চালু করে। ২০২৪ সালের শেষদিক থেকে ফেসবুক পেজে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন, ভুয়া ভিসা ও ভুয়া গ্রাহকদের ভিডিও প্রচার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁদ পাতে তারা।
প্রতিষ্ঠানের দুই মূল কর্ণধার হলেন—সিলেট জেলা যুবশক্তির সাবেক আহ্বায়ক জাবের আহমদ এবং সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সদস্য ইমন উদ্দিন। তারা পর্তুগাল ও কানাডাসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৭০০ তরুণের কাছ থেকে মাথাপিছু ১ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম গ্রহণ করেন।
দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও কোনো ভিসা না হওয়ায় ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইতে গেলে উল্টো বিপাকে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, জাবের ও ইমন তাঁদের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং দলীয় শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে থাকা ছবি দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন। এমনকি টাকা ফেরতপ্রার্থীদের অস্ত্র দেখিয়ে এবং নারী কর্মীদের দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হয়।
প্রতারণার বিষয়টি ব্যাপকভাবে জানাজানি হলে গত ১৯ মে জাবের ও ইমন অফিসে তালা ঝুলিয়ে এবং প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক পেজটি গায়েব করে দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। ওই রাতে ক্ষুব্ধ ৩০-৪০ জন ভুক্তভোগী নগরের কুমারপাড়ায় প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর বাসভবনে গিয়ে ভিড় করেন। মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সিলেট পুলিশ কমিশনারকে মামলা গ্রহণ ও আসামিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।
পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগী নেওয়াজুর রহমান বাদী হয়ে সিলেট মহানগরীর শাহপরাণ থানায় জাবের ও ইমনসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ৭ কোটি টাকা আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করেন। মামলার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এরই মধ্যে ছাত্রদল নেতা ইমন বিদেশ পালানোর চেষ্টা করলে তাঁর পাসপোর্ট ব্লক করে দেওয়া হয় এবং পুলিশি অভিযানে চক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে দলীয় দায় এড়াতে সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী আহসান জানিয়েছেন, ইমন উদ্দিনের এই অপকর্মের দায় দল নেবে না। অন্যদিকে জেলা এনসিপির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে জাবের আহমদকে অনেক আগেই সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রতারক চক্রটি কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। ইতিমধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে এবং মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
