নিজস্ব প্রতিনিধি
ঝালকাঠি শহরের শ্মশানঘাট এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তেই ছাই হয়ে গেছে ১৬টি বসতঘর। সোমবার দুপুরে একটি ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, ফলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো এলাকা রূপ নেয় ধ্বংসস্তূপে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দমকল কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবীরাও প্রাণপণ চেষ্টা চালান। প্রায় দুই ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে নিঃস্ব হয়ে পড়ে ১৬টি পরিবার।
ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, আগুন লাগার পর নিজেদের কিছুই রক্ষা করতে পারেননি তারা। ঘরের আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র—সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছেন পরিবারগুলো, যা মানবিক সংকটকে আরও প্রকট করেছে।
বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক সেলিম মিয়া জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
এদিকে ঘটনাটি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে। স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে আগুন ও হামলার ঘটনা বাড়ছে। যা তাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
সমালোচকরা বলছেন, অতীতের বিতর্কিত ড. ইউনূসের শাসনামলের ব্যর্থতার পরও বর্তমান বিএনপির সরকারের সময়েও এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড, হামলা ও মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ফলে প্রশ্ন উঠছে রাষ্ট্র কি সত্যিই নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে পারছে?
ঝালকাঠি জেলা প্রশাসন মো. মমিন উদ্দিন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের মতে, এই সামান্য সহায়তা তাদের জীবনের বিশাল ক্ষতির সামনে নিতান্তই অপ্রতুল।
একের পর এক আগুন, আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা এভাবেই কি পুড়তে থাকবে বাংলাদেশ?
