আওয়ামী লীগের মেয়র ও কাউন্সিলরদের সরাতে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা বিতর্কিত চারটি অধ্যাদেশ এখন স্থায়ী আইনে রূপান্তর করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার।
এর ফলে ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ বা ‘জনস্বার্থের’ দোহাই দিয়ে যেকোনো সময় নির্বাচিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্ত করার একচ্ছত্র ক্ষমতা সরকারের হাতে চলে আসবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তদন্ত বা বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই জনপ্রতিনিধি সরানোর এই সুযোগ গণতন্ত্রের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়র ও ৬০টি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ ১ হাজার ৮৭৬ জন জনপ্রতিনিধিকে এই অধ্যাদেশের মাধ্যমেই অপসারণ করা হয়েছিল।
তখন ‘বিশেষ পরিস্থিতির’ কোনো স্পষ্ট সংজ্ঞা না দিয়েই এই নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়। এখন নির্বাচিত বিএনপি সরকার সেই একই পথ অনুসরণ করে স্থানীয় সরকারকে কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে রাখার ছক আঁকছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে ১১৭টি অনুমোদনের সুপারিশ করেছে, যার মধ্যে স্থানীয় সরকারের এই বরখাস্তকরণ সংক্রান্ত ধারাগুলোও রয়েছে।
যদিও বিএনপির নিজস্ব ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা’ ও নির্বাচনী ইশতেহারে স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি ছিল, তবে এই পদক্ষেপ সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। অনেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র এই উদ্যোগকে ‘ভোটারের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, এই অধ্যাদেশগুলো দ্রুতই বিল আকারে সংসদে তোলা হবে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো পাশে সরিয়ে রেখে জনপ্রতিনিধি বরখাস্তের ক্ষমতা বহাল রাখা মূলত কেন্দ্রীয় কর্তৃত্ব বজায় রাখারই কৌশল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম এই সিদ্ধান্তকে ‘দুঃখজনক’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, কোনো সরকারই স্থানীয় সরকারকে প্রকৃত অর্থে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চায় না।
