দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রশাসনিক রদবদল। এরই অংশ হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রো-ভিসি (প্রশাসন) পদে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন গণিত বিভাগের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি বর্তমানে গণিত বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি ফজিলাতুন্নেসা হলের প্রভোস্ট এবং জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন।
অধ্যাপক নজরুল ইসলাম যোগদানের পর থেকেই সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। শিক্ষাদানের পাশাপাশি গবেষণায় তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনাম অর্জন করেছেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বরাবরই সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তিনি সবসময় সোচ্চার অবস্থান নিয়েছেন।
জাতীয়তাবাদী শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে পূর্ববর্তী শাসনামলে তিনি নানা ধরনের বঞ্চনা ও অবমূল্যায়নের শিকার হয়েছেন। তবুও এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি নিজের অবস্থানে অটল থেকেছেন এবং গঠনমূলক সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের সূত্রে জানা গেছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) পদে অধ্যাপক নজরুল ইসলাকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। অতি দ্রুত এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন,
“আমি যেহেতু রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় একজন মানুষ এবং দীর্ঘদিন রাজপথে ছিলাম, তাই আমার প্রত্যাশা—জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও সমতাপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে। আমাকে কোন দায়িত্ব দেওয়া হবে, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। তাই এ মুহূর্তে নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা শেয়ার করা সমীচীন হবে না।”
অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম স্যার আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রিয় শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীবান্ধব বিভাগীয় প্রধান। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি একজন পেশাজীবী সংগঠক হিসেবে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্দোলনেও তিনি শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলেন। প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদে স্যারের মতো বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ও দক্ষ সংগঠকের পদায়ন হলে তা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সময়োপযোগী হবে। আমরা স্যারকে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদেই দেখব বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সংগ্রাম ও প্রত্যাশার পর অধ্যাপক নজরুল ইসলামের প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
