নিজস্ব প্রতিনিধি
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক ‘প্রথম আলো’র ওপর চড়াও হয়েছেন বিতর্কিত লেখক ও স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবী ব্রাত্য রাইসু। দুর্নীতির তথ্যকে আড়াল করে উল্টো সংবাদপত্রের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।
সম্প্রতি বাসস এমডি মাহবুব মোর্শেদের প্রশাসনিক অনিয়ম ও আর্থিক সংগতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রথম আলো। প্রতিবেদনে উঠে আসে কীভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ছোটখাটো বিষয়েও অনৈতিক সুবিধা নেওয়া হয়েছে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই মাহবুব মোর্শেদের ঘনিষ্ঠ বলয় হিসেবে পরিচিত একটি গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদপত্রটির বিরুদ্ধে বিষোদ্গার শুরু করে।
সাদ রহমান নামক এক ব্যক্তির ফেসবুক পোস্ট শেয়ার করে ব্রাত্য রাইসু প্রথম আলোকে ‘মফস্বলিয়ানা পত্রিকা’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন এটি ‘কালের কণ্ঠে’ পরিণত হচ্ছে। রাইসুর দাবি, মাহবুব মোর্শেদ যখন শেখ হাসিনার রোষানলে পড়া প্রথম আলোর পক্ষে রাস্তায় দাঁড়িয়েছিলেন, তখন এখন তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা ‘সিলি’ বা বোকামি।
সচেতন মহল মনে করছেন, রাইসুর এই মন্তব্য সরাসরি ‘ব্যক্তিগত কৃতজ্ঞতার খাতিরে দুর্নীতিকে বৈধতা দেওয়া’র নামান্তর। দুর্নীতির সংবাদকে ‘চরিত্রহনন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে রাইসু মূলত ক্ষমতার অপব্যবহারকারীকে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
রাইসুর এই স্ট্যাটাসের নিচে সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীরা ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। তাদের মতে, ১০০ কোটি টাকা বা ১০০ টাকা—দুর্নীতি সর্বদা অপরাধ। অথচ রাইসু ও তার সহযোগীরা ‘কম পয়সার দুর্নীতি’ বলে বিষয়টিকে হালকা করার চেষ্টা করছেন। একজন তথাকথিত বুদ্ধিজীবী হয়ে দুর্নীতির তথ্যের বিপরীতে কোনো যুক্তি না দিয়ে উল্টো পত্রিকার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা তার বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্বকেই প্রকাশ করে। অতীতে কে কার পক্ষে দাঁড়িয়েছিল, তার ওপর ভিত্তি করে সাংবাদিকতা চললে দেশ দুর্নীতিবাজদের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, বাসস এমডির মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে থাকা ব্যক্তির অনিয়ম নিয়ে রাইসু কেন এত বিচলিত? দুর্নীতির পাহাড় আড়াল করতে যারা সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করতে চায়, রাইসু কি তবে তাদেরই মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছেন? তথাকথিত ‘মফস্বলিয়ানা’র দোহাই দিয়ে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভকে বিতর্কিত করার এই অপপ্রয়াসকে নেতিবাচক চোখেই দেখছে সাধারণ জনতা।
