২০০৭ সালের বিতর্কিত ‘এক-এগারো’ এবং বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে এক গভীর ও রহস্যময় যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দুই অনির্বাচিত সরকারের আমলেই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন একই একদল ব্যক্তি।
যাদের মূল লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র ধ্বংস করা, অর্থনীতিকে বিদেশনির্ভর করা এবং দেশকে বিদেশি শক্তির তাঁবেদারে পরিণত করা। গত ১৮ মাসে এক-এগারোর সেই ‘অধরা নীল নকশা’ বাস্তবায়নের শেষ চেষ্টা চালিয়েছেন এই সুশীল কুশীলবরা।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই ছিলেন এক-এগারোর অন্যতম প্রধান সমর্থক এবং ফখরুদ্দীন সরকারকে পর্দার আড়াল থেকে পরিচালনাকারী। মইন উ আহমেদের গ্রন্থ অনুযায়ী, ২০০৭ সালেই তিনি ক্ষমতা চেয়েছিলেন, কিন্তু দুই বছর সময় কম মনে হওয়ায় তখন রাজি হননি। এবার প্রধান উপদেষ্টার কুর্সিতে বসে তিনি সেই পুরোনো খায়েশ মেটাতে চেয়েছিলেন।
তাঁর সাথে যুক্ত ছিলেন সাবেক বিতর্কিত নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন এবং সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার যারা দুজনেই এক-এগারোর সময় বিএনপি ভাঙা ও বিরাজনীতিকরণে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ অন্তত সাতজন উপদেষ্টা ও প্রভাবশালী ব্যক্তি দুই আমলেই সক্রিয় ছিলেন। তাদের সহযোগী হিসেবে ছিল সুশীল সমাজের মুখপত্র দুটি নির্দিষ্ট সংবাদপত্র, যারা ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’র জনক।
গত দেড় বছরও তারা ‘নির্বাচনের আগে সংস্কার’ এবং ‘জনগণ আমাদের ৫০ বছর ক্ষমতায় চায়’ এমন অবাস্তব বয়ান তৈরি করে গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠানোর ওকালতি করেছে। রাজনীতিবিদদের চরিত্রহনন ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে দেশি-বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নই ছিল তাদের প্রধান কাজ।
বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব নিয়েই এই এক-এগারোর ভূত ও অন্তর্বর্তীকালীন ষড়যন্ত্রকারীদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
সেনাবাহিনীর সাবেক কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ২০০৭ সালের বিরাজনীতিকরণ ষড়যন্ত্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেবল সামরিক নয়, এই সুশীল ষড়যন্ত্রকারী ও তাদের মদতদাতা সংবাদপত্রগুলোর বিচার না হলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র কখনোই নিরাপদ হবে না।
