ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার পর ‘রাষ্ট্র সংস্কার’-এর প্রতিশ্রুতি দিলেও ১৮ মাসের শাসনামলে নিজের প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিলের এক ভয়ংকর চিত্র ফুটে উঠেছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ১৬ বছর ধরে ঝুলে থাকা রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স এবং আটকে থাকা ই-ওয়ালেট লাইসেন্স ড. ইউনূস ক্ষমতায় বসার পর রকেট গতিতে অনুমোদন পেয়েছে। সাধারণ ব্যবসায়ীরা যেখানে বছরের পর বছর দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছেন, সেখানে প্রধান উপদেষ্টার প্রভাবে তাঁর নিজের প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাগ্য খুলেছে অবিশ্বাস্য দ্রুততায়।
ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ট্রাস্টের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড’ জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্সের জন্য গত ১৬ বছর ধরে চেষ্টা করেও আইনি জটিলতায় ব্যর্থ হয়েছিল।
কিন্তু ২০২৪ সালের ৮ আগস্টের পর দৃশ্যপট পাল্টে যায়। ড. ইউনূস ক্ষমতায় বসার মাত্র কয়েক মাসের মাথায় ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি রহস্যজনকভাবে রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স ও বায়রা (BAIRA)-র সদস্যপদ পেয়ে যায়, যা ক্ষমতার অপব্যবহারের এক চরম দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
একইভাবে ড. ইউনূসের আরেকটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প ‘সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেড’ ডিজিটাল পেমেন্ট গেটওয়ে বা ই-ওয়ালেট লাইসেন্স পেতে মরিয়া ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দীর্ঘদিন ধরে এই লাইসেন্স আটকে রাখলেও ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার পর কয়েক মাসের মধ্যেই এর অনুমোদন মিলে যায়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর সরাসরি প্রভাব খাটিয়ে কঠোর স্ক্রুটিনি ছাড়াই এই ছাড়পত্র বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে সরাসরি ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of Interest) এবং সংবিধানের ১৪৭ ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের মতে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে বসে নিজের ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠানের জন্য লাইসেন্স নেওয়া কেবল অনৈতিক নয়, বরং শপথ ভঙ্গের শামিল। ড. ইউনূস বিশ্বকে স্বচ্ছতার ছবক দিলেও তাঁর ১৮ মাসের শাসনকাল আসলে নিজের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ার নেশায় মত্ত ছিল বলেই প্রমাণিত হচ্ছে।
