দেশের একসময়ের সুসংগঠিত গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ওষুধের তীব্র সংকট, বিকল যন্ত্রপাতি এবং টিকাদান কর্মসূচিতে নজিরবিহীন স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে, মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুস্বাস্থ্যের মতো মৌলিক সেবাগুলো এখন পুরোপুরি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, যার ফলে গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কমিউনিটি ক্লিনিক ও তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত স্বাস্থ্য কাঠামোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ বাড়ির পাশেই চিকিৎসা পেত।
শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে মহামারি মোকাবিলা থেকে শুরু করে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেল হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সেই সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পোর্টার ভাতা বন্ধ ও প্রশিক্ষণ স্থগিত করায় স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, বর্তমান প্রশাসনের অব্যবস্থাপনায় প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে চলে গেছে। জীবনরক্ষাকারী টিকার অভাবে অনেক জেলায় শিশুদের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে।
সমালোচকদের প্রশ্ন, শিশুদের জীবন বিপন্ন করে ড. ইউনূস কি কোনো নতুন ‘সোশ্যাল বিজনেস মডেল’ বাস্তবায়ন করতে চাইছেন? এনসিডি কর্নারগুলো অচল হয়ে পড়ায় এবং অ্যাম্বুলেন্স সংকটে জরুরি রোগীরাও সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে পারছেন না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি সফল ও কার্যকর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের ফ্রি ওষুধ না পেয়ে রোগীরা চড়া দামে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। শিশুদের পুষ্টি ও ভিটামিন কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। এই অব্যবস্থাপনা ও শিশুমৃত্যুর দায়ভার ড. ইউনূস এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
