সুশাসন আর নীতি-নৈতিকতার বুলি আউড়ে বেড়ানো ড. বদিউল আলম মজুমদারের নেতৃত্বাধীন সংগঠন ‘সুজন’ (সুশাসনের জন্য নাগরিক) ট্রাস্টের বিরুদ্ধে এবার উঠেছে বিশাল আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) অর্থায়নে পরিচালিত ‘ব্যালট’ নামক একটি প্রকল্পে প্রায় ৬ কোটি টাকা লোপাটের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। খোদ ইউএনডিপির অডিটেই ধরা পড়েছে যে, প্রকল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ ভাউচারই জাল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গণভোটের পক্ষে জনমত গঠনের লক্ষ্যে এই প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬৪ জেলায় ‘ইয়ুথ অ্যাম্বাসেডর’ নিয়োগ দিয়ে তরুণ ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করার কথা থাকলেও বাস্তবে বিপুল পরিমাণ অর্থ নয়ছয় করা হয়েছে।
প্রতিটি অ্যাম্বাসেডরকে আড়াই মাসের জন্য দেড় লাখ টাকা করে দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা পকেটস্থ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
প্রকল্প শেষে ইউএনডিপি যখন অডিট পরিচালনা করে, তখন দেখা যায় প্রায় ৮০ শতাংশ বিল ও ভাউচার জালিয়াতির মাধ্যমে দাখিল করা হয়েছে। এছাড়া সরকারের প্রাপ্য বিশাল অংকের ভ্যাট ও ট্যাক্সও পরিশোধ করেনি সুজন ট্রাস্ট। দুর্নীতির প্রমাণ হাতেনাতে ধরা পড়ার পর গত ২৮ তারিখে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একরামুল হককে তড়িঘড়ি করে পদত্যাগ করিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন বদিউল আলম মজুমদার।
বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বদিউল আলম মজুমদার। যিনি সারাক্ষণ স্বচ্ছতা আর জবাবদিহিতার সবক দেন, তাঁর নিজের সংগঠনের এই ভয়াবহ লুণ্ঠন সুশীল সমাজের দ্বিমুখী নীতিকেই নগ্নভাবে উন্মোচিত করেছে।
এনজিও সেক্টরে এই ঘটনা নিয়ে এখন ব্যাপক গুঞ্জন চলছে, যা দেশের ভাবমূর্তিকেও ক্ষুণ্ণ করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
