বাংলাদেশ থেকে ভিজিট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে এসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন একাধিক শিল্পী—এমন অভিযোগ ও আলোচনা প্রবাসী মহলে ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। আসছে গ্রীষ্মের মৌসুম, ইতোমধ্যে আমেরিকার বিভিন্ন শহরে আয়োজকরা তাদের অনুষ্ঠান ঘোষণা করে পোস্টার প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যাচ্ছে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি শিল্পী, যারা নিয়মিত ভিজিট ভিসায় আমেরিকা এসে বাণিজ্যিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, অনেক শিল্পী পর্যটন বা বিজনেস ক্যাটাগরির (B1/B2) ভিসা নিয়ে বিদেশে প্রবেশ করলেও সেখানে গিয়ে স্টেজ শো, কনসার্ট ও বাণিজ্যিক পারফরম্যান্সে অংশ নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের কার্যক্রম ভিসার শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এই তালিকায় আছেন আবু হেনা রনি, ইভানা পার্শা, বাউল শফি মন্ডল, হাসান জাহাঙ্গীর, জিয়াউল হক পলাশ, লুইপা সহ বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি শিল্পী।
ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিজিট ভিসা মূলত ভ্রমণ, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করা কিংবা স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহারের জন্য। এই ভিসায় সরাসরি পারফর্ম করে অর্থ উপার্জন করা বা বাণিজ্যিক শো করা নিয়মবহির্ভূত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
প্রবাসী কমিউনিটির একাংশের অভিযোগ, কিছু আয়োজক সংস্থা নিয়মিতভাবে এই প্রক্রিয়ায় শিল্পীদের নিয়ে এসে অনুষ্ঠান আয়োজন করছে। এতে একদিকে যেমন আইনি ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে প্রকৃত শিল্পীদের জন্য ভিসা পাওয়া আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে। আমেরিকায় বসবাসরত শিল্পীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এবং যারা P-3 ভিসায় আসতে চান তারাও বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।
২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই এবং আর্থিক শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অনিয়ম চলতে থাকলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধ আসতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের অনেকেই সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে আয়োজকদের দাবি, তারা “সাংস্কৃতিক বিনিময়” কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠান পরিচালনা করছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক ভিসা আইন মেনে শিল্পীদের যথাযথ পারফর্মিং ভিসা নিয়ে বিদেশে যাওয়াই উচিত। অন্যথায় ব্যক্তি ও দেশের ভাবমূর্তি—দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
