জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কাউকে আটক করা হলে তা ‘গুম’ হিসেবে গণ্য হবে না এমন বিতর্কিত যুক্তিতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ’ বাতিল হতে যাচ্ছে। ত্রয়োদশ সংসদের বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর না করার সুপারিশ করেছে, যার মধ্যে গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো রয়েছে।
বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, ৯৮টি অধ্যাদেশ সরাসরি আইনে পরিণত হচ্ছে, কিন্তু যেসব অধ্যাদেশে সরকারের জবাবদিহি বাড়ানোর সুযোগ ছিল, সেগুলো রহিত করার পথে হাঁটছে বর্তমান বিএনপি সরকার। বিশেষ করে বিচারপতি নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা খর্ব করা এবং নিম্ন আদালতের নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির হাতে দেওয়ার অধ্যাদেশগুলোও বাতিলের তালিকায় রয়েছে। এর ফলে বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও নিরঙ্কুশ হবে।
গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামতে বলা হয়েছে, এটি একটি ‘সংবেদনশীল’ বিষয় যেখানে শৃঙ্খলা বাহিনীর দায় সম্পৃক্ত, তাই এটি এখনই আইন হচ্ছে না। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এতে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত দিয়ে বলেছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে উপস্থাপন না করা সংবিধানের লঙ্ঘন। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই একসময় গুমের শিকার হলেও তাঁর মন্ত্রণালয়ের এমন অবস্থানে জনমনে চরম উদ্বেগ ও বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে।
