নিজস্ব প্রতিনিধি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের প্রভাবশালী নেতা ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ শোভন দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি বর্তমান সরকার ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নীতি ও কার্যক্রমের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে তীব্র সমালোচনা করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান।
শেখ শোভন তার বিবৃতিতে ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ছাত্র-জনতা-সিপাহীর ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে যে পরিবর্তন এসেছিল, তার চেতনা আজ উপেক্ষিত। ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থের অন্ধ প্রতিযোগিতায় সহস্র শহীদের আত্মত্যাগ আজও ন্যায্য মর্যাদা পায়নি। এটি জাতির জন্য এক গভীর লজ্জা ও বেদনার ইতিহাস।
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দলের জন্য লড়াই করা এই ছাত্রনেতা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, চলমান জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলায় সম্পূর্ণভাবে কপটতার আশ্রয় নেওয়া দুর্বল সরকার ও দলের (বিএনপি) প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নিপীড়িত দেশমাতা বেগম জিয়ার প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি রাজনীতি করেছেন। কিন্তু বর্তমান দলীয় নীতির সঙ্গে একজন আদর্শনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে তার পথচলা আর সম্ভব নয়।
দলের চেয়ে রাষ্ট্রকে বড় করে দেখার আহ্বান জানিয়ে শোভন লেখেন, রাষ্ট্রই সর্বোচ্চ, দল তার একটি উপাদান মাত্র। রাষ্ট্রের স্বার্থ, ন্যায় ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস হতে পারে না।
তিনি সতর্ক করে বলেন, জাতির মর্যাদা ও ন্যায়ের প্রশ্নে সংগ্রাম অনিবার্য হলে তিনি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। অন্যায়ের সামনে নতজানু না হয়ে শাহাদাতকেই নিজের চূড়ান্ত অঙ্গীকার হিসেবে ঘোষণা করেন তিনি।
শেখ শোভনের মতো একজন সক্রিয় নেতার এমন কঠোর অবস্থানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল ও বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে যে অসন্তোষ দানা বাঁধছে, শোভনের এই পদত্যাগ তারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিবৃতির শেষে তিনি ‘বাংলাদেশ চিরজীবী হউক’ স্লোগান দিয়ে নিজের এক দশকের রাজনৈতিক অধ্যায়ের ইতি টানেন। তবে ভবিষ্যতে দেশমাতৃকার প্রয়োজনে রাজপথে ফেরার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এই ছাত্রনেতা।
