জাতীয় সংসদে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভাগ্য নির্ধারণী সুপারিশ উত্থাপন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন সংসদে এই প্রতিবেদন পেশ করেন।
প্রতিবেদনে ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু বহাল রাখার সুপারিশ করা হলেও, গণভোট ও গুম প্রতিরোধসহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই সংসদে উত্থাপন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশ অনুমোদিত না হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বা ‘ল্যাপস’ হয়ে যায়।
সেই হিসেবে আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫ এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশসহ ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ আইনি কাঠামো কার্যকরিতা হারাবে। যদিও কমিটি বলেছে, এগুলো আরও যাচাই-বাছাই করে ভবিষ্যতে নতুনভাবে আনা হতে পারে।
এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর তিন সদস্য কমিটির এই সুপারিশের ওপর ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত দিয়েছেন।
বিশেষ করে জেলা পরিষদ, উপজেলা ও সিটি করপোরেশনে অনির্বাচিত প্রশাসক নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলোকে তাঁরা সংবিধানবিরোধী ও বেআইনি বলে দাবি করেছেন। তাঁদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী স্থানীয় সরকারে অনির্বাচিত প্রতিনিধি বসানো গণতান্ত্রিক কাঠামোর পরিপন্থি।
বাতিলের তালিকায় আরও রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, তথ্য অধিকার এবং কাস্টমস ও আয়কর সংক্রান্ত একাধিক সংশোধনী।
গত ১২ মার্চ গঠিত এই বিশেষ কমিটি মাত্র তিনটি বৈঠকেই ১৩৩টি অধ্যাদেশের চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষ করে এই প্রতিবেদন জমা দেয়। ১২ এপ্রিলের ডেডলাইন পার হলে অন্তর্বর্তী সরকারের এই সংস্কারমূলক উদ্যোগগুলো আইনি অস্তিত্ব হারাবে।
