চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে ছোট শিশুদের নাটকে ‘রাজাকার’ চরিত্র প্রদর্শন করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেলের বিরুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসনির্ভর নাটকে খলনায়ক তথা রাজাকারের উপস্থিতি অপরিহার্য হলেও, এমপির আপত্তিতে সেই চরিত্রটি বাদ দিয়েই নাটক মঞ্চস্থ করতে বাধ্য হয় আয়োজকরা।
জামায়াতে ইসলামীর মতো একটি দল, যাদের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহায়তা, হত্যা ও ধর্ষণের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার ও ফাঁসি হয়েছে, সেই দলের প্রতিনিধি যখন এমপি হন তখন ইতিহাসের এমন বিকৃতি অস্বাভাবিক নয়। বিচারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত যুদ্ধাপরাধী সংগঠনের একজন সদস্যের উপস্থিতিতে রাজাকারের অভিনয় মঞ্চস্থ হওয়া যেন আয়না দেখার মতোই ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির ভূমিকার বিষয়টিও সামনে আসছে, যারা বর্তমানে একই রাজনৈতিক মেরুকরণে অবস্থান করছে। ক্যান্টনমেন্টে জন্ম নেওয়া একটি দল এবং যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত মিলে বছরের পর বছর ধরে ইতিহাস থেকে সত্য মুছে ফেলার যে চেষ্টা চালিয়ে আসছে, আলমডাঙ্গার এই ঘটনা তারই এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। ভোটারবিহীন ও পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে।
নাটকের শেষে দেখা গেছে এক অদ্ভুত দৃশ্য; রাজাকার চরিত্র বাদ দিয়ে ‘বাবা-ছেলে’র সম্পর্কের আবেগীয় দৃশ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শেষ করা হয়েছে। ইতিহাস থেকে খলনায়ককে আড়াল করার এই অপচেষ্টা আসলে নতুন প্রজন্মের কাছে সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার এক পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। চুয়াডাঙ্গার সেই মঞ্চে যা ঘটেছে, তা কেবল একটি নাটকের কর্তন নয়, বরং বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তিমূলে কুঠারাঘাতের নামান্তর।
