হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতা শায়খ হারুন ইজহার (হাফি.) এবার জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন ও কঠোর আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর মতে, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতজানু নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি মন্তব্য করেছেন, ক্ষমতার জন্য জামায়াত এখন ‘আমেরিকাকে আব্বা এবং ভারতকে চাচা’ সম্বোধন করতেও দ্বিধা করছে না, যা তাঁদের আদর্শিক দেউলিয়াপনার বহিঃপ্রকাশ।
হারুন ইজহার জামায়াতের অনলাইন প্রোপাগান্ডাকে ‘বট বাহিনীর জুলুম’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ তুলেছেন, জামায়াত তাদের ডিজিটাল বাহিনী ব্যবহার করে ভিন্নমতাবলম্বী আলেম ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের চরিত্রহনন করছে। ফেসবুকে গুজব রটিয়ে মানুষের মান-সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলা ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ‘জুলুম’ বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হারুন ইজহারের এই বক্তব্যের মাধ্যমে হেফাজত ও জামায়াতের মধ্যকার দীর্ঘদিনের মনস্তাত্ত্বিক লড়াইটি আবারও রাজপথে ও অনলাইনে প্রকাশ্যে চলে এল। ইসলামের দোহাই দিয়ে রাজনীতি করলেও জামায়াতের কর্মকাণ্ড অনেক ক্ষেত্রেই অনৈতিক এবং প্রতিহিংসাপরায়ণ বলে তিনি দাবি করেন। বিশেষ করে ফেক আইডি বা ‘বট’ ব্যবহার করে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানোকে তিনি ভয়াবহ অপরাধ হিসেবে গণ্য করছেন।
হারুন ইজহারের এই ‘বট বাহিনী’ তত্ত্ব এবং বৈদেশীয় শক্তির কাছে জামায়াতের মাথানত করার বিষয়টি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় টপ ট্রেন্ডিং। আলেম সমাজের একটি বড় অংশ মনে করছে, জামায়াতের বর্তমান কার্যপদ্ধতি সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে। এই তীক্ষ্ণ আক্রমণের পর জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়
