বাংলাদেশ একসময় বিশ্বের কাছে টিকাদান কর্মসূচির এক রোল মডেল ছিল। গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনেশন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (GAVI) ২০১৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ উপাধিতে ভূষিত করেছিল। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর আগ পর্যন্ত দেশের ইপিআই কর্মসূচি ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল।
কিন্তু সেই সাফল্যের চূড়া থেকে আজ দেশ এক ভয়াবহ খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে। ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে স্বাস্থ্যখাতের চরম অব্যবস্থাপনায় দেশজুড়ে এখন ‘হাম আতঙ্ক’ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন বাড়ছে লাশের মিছিল, যা জনমনে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
চলতি মার্চ মাসে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কেবল হাম ও সংশ্লিষ্ট জটিলতায় শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়েছে। রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালেই গত এক মাসে ১৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই পরিসংখ্যান আমাদের স্বাস্থ্যখাতের দেউলিয়াপনার এক বীভৎস দলিল।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতের জন্য বরাদ্দ ছিল প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা। বিশাল বাজেট থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে টিকার চরম সংকট কেন তৈরি হলো, সেই প্রশ্ন এখন মুখে মুখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়ার প্রধান কারণ হলো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অযোগ্যতা।
অভিযোগ উঠেছে, ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনায় অভিজ্ঞ নূরজাহান বেগমকে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া ছিল একটি ভুল সিদ্ধান্ত। জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও ভ্যাকসিন ডিপ্লোমেসি সম্পর্কে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় দেশ আজ এই চরম মূল্য দিচ্ছে। শিশুদের জীবন নিয়ে এক ধরনের ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষা’ চলছে।
সংস্কারের নামে স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে ড. ইউনূসের অনুগত ব্যক্তিদের বসিয়ে লুটপাটের ক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। ৫ আগস্টের পর থেকে ভ্যাকসিনের সাপ্লাই চেইন যেভাবে ভেঙে পড়েছে, তা অপরাধমূলক উদাসীনতারই প্রমাণ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন বইছে প্রতিবাদের ঝড়। নেটিজেনরা এই ‘গণ-শিশুমৃত্যু’র দায় প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের ওপর চাপাচ্ছেন। জীবন রক্ষাকারী টিকা নিশ্চিত করতে না পারাকে অনেকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবেও অভিহিত করছেন।
যে দেশ একসময় বিশ্বকে টিকাদানে পথ দেখিয়েছে, আজ সেই দেশেই ‘হাম ট্র্যাজেডি’ শিরোনাম হচ্ছে—এটি কেবল দুঃখজনক নয়, চরম লজ্জাজনক। জবাবদিহিতা ও সঠিক নেতৃত্ব ছাড়া এই পতন ঠেকানো সম্ভব নয়। অন্যথায় এই ব্যর্থতার দায় কোনোভাবেই এড়ানো যাবে না।
