দেশের সাধারণ মানুষ যখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আর নিরাপত্তাহীনতায় দিশেহারা, তখন প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মনোযোগ ছিল নিজের আইনি জটিলতা নিরসন এবং ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গ্রামীণ ট্রাস্টের পথ সুগম করার দিকে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়া সরাসরি ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of Interest) এবং শপথ ভঙ্গের শামিল।
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট শপথ নেওয়ার ঠিক আগের দিন, ৭ আগস্ট শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল তড়িঘড়ি করে ড. ইউনূসকে শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলা থেকে খালাস দেয়। উল্লেখ্য, এই মামলায় নিম্ন আদালত তাঁকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল। সরকারের পতনের পর একে একে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা দেড় শতাধিক মামলা উধাও হতে শুরু করে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল গ্রামীণ টেলিকমের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের দুদকের মামলা। ইউনূস শপথ নেওয়ার তিন দিনের মাথায় দুদক নিজেই এই মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে একদিনেই তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আরও ৬টি মামলা বাতিল করা হয়।
ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড’ ২০০৯ সাল থেকে রিক্রুটিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে ঝুলে ছিল। তবে ড. ইউনূস ক্ষমতায় বসার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটি লাইসেন্স পেয়ে যায়। শুধু তাই নয়, ওই সময় অনেক পুরোনো আবেদন ঝুলে থাকলেও একমাত্র ইউনূসের প্রতিষ্ঠানই বিশেষ সুবিধায় বায়রা (BAIRA)-র সদস্যপদ লাভ করে। তাঁর জাপান সফরের পরপরই এই প্রতিষ্ঠানটি জাপানে কর্মী পাঠানোর একচেটিয়া সুযোগ পায়।
ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা ‘সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেড’ ২০২১ সালে লাইসেন্সের আবেদন করলেও তিন বছরে তা আলোর মুখ দেখেনি। তবে ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার মাত্র ৫১ দিনের মাথায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনাপত্তি পায় প্রতিষ্ঠানটি। যে শর্ত পূরণে অন্য প্রতিষ্ঠানের বছরের পর বছর লাগে, সেখানে মাত্র ৯ মাসেই সব প্রক্রিয়া শেষ করে চূড়ান্ত লাইসেন্স বাগিয়ে নেয় এই ই-ওয়ালেট সেবা। প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ পদে রয়েছেন গ্রামীণ টেলিকমের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ।
ড. ইউনূসের আমলে গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারের মালিকানা ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। এর ফলে পরিচালনা পর্ষদে সরকারের প্রতিনিধি ও তদারকির ক্ষমতা সীমিত হয়ে গেছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের মতে, একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এভাবে জবাবদিহিতার বাইরে নিয়ে আসা জনস্বার্থের পরিপন্থী।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, “ড. ইউনূস রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে বসে ব্যক্তিগত স্বার্থে পদটিকে ব্যবহার করেছেন। তিনি কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টে দায়ী এবং এর মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।” আইনজীবীদের মতে, সাংবিধানিক পদে থেকে নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য সুবিধা নেওয়া সরাসরি শপথের বরখেলাপ।
