২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনামলে বাংলাদেশ এক নজিরবিহীন নৈরাজ্যের সাক্ষী হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান, মাজার-মন্দিরে অগ্নিসংযোগ এবং গণমাধ্যমে হামলার মধ্য দিয়ে দেশে এক ভয়ার্ত পরিবেশ তৈরি করা হয়। ব্যবসায়ী সমাজকে চরম অবজ্ঞা এবং হয়রানিমূলক মামলার জালে বন্দি করে বিনিয়োগের পথ রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
মব সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক সহিংসতার মহোৎসব মানবাধিকার সংগঠন এমএসএফ-এর তথ্যমতে, ২০২৫ সালে দেশে মব জাস্টিস বা গণপিটুনির ঘটনা আগের বছরের তুলনায় তিনগুণ বেড়ে ৪২৮টিতে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ১৬৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি হয়েছেন ১৩৩ জন। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে প্রায় ৪ হাজার হত্যা মামলা হয়েছে এবং ৫৩৯ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ৭২টি গুরুতর অপরাধের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে, যা জননিরাপত্তার চরম অবনতি প্রমাণ করে।
অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও ঋণের বোঝা ব্যাংকিং খাতে গত দেড় বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে অভাবনীয় ১৫১ শতাংশ। ২০২৪ সালের জুনে যা ছিল ২ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা, ২০২৫ সালের জুনে তা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকায়। বর্তমানে সুদের হার ১৪-১৬ শতাংশে ওঠায় নতুন বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে। ড. ইউনূসের আমলে বৈদেশিক ঋণ ১০ বিলিয়ন ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ১১৩.৫১ বিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে, বিনিয়োগ প্রস্তাব এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে ৫৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ৩২৭টি কারখানা বন্ধ হওয়ায় কর্মহীন হয়েছেন দেড় লক্ষাধিক শ্রমিক।
বিতর্কিত চুক্তি ও কূটনৈতিক ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ‘রেসিপ্রোকাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট’-এর নামে ২১.৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য ক্রয়ের বাধ্যবাধকতা মেনে নেওয়া হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য আত্মঘাতী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এলএনজি আমদানিতে স্পট মার্কেটের চেয়েও বেশি দামে চুক্তির ফলে রাষ্ট্রের হাজার কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ব্যর্থতা চরমে পৌঁছেছে; গত ১৫ মাসে আরও প্রায় দেড় লাখ নতুন রোহিঙ্গা দেশে প্রবেশ করেছে, কিন্তু একজনকেও ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি।
উন্নয়ন প্রকল্পে স্থবিরতা ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং এক্সপ্রেসওয়ের মতো মেগা প্রকল্পগুলো অদক্ষতার কারণে থমকে গেছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশে দারিদ্র্য কমেনি বরং বেড়েছে। বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের সাথে একবারও কোনো বৈঠক না করে ড. ইউনূস প্রমাণ করেছেন যে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার চেয়ে নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা শক্তির তোষণই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য।
