নিজস্ব প্রতিনিধি
মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক উত্তেজনা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের প্রথম বড় জ্বালানি সংকটে পড়া দেশ হতে পারে বাংলাদেশ—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্যা টেলিগ্রাফ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে সীমিত সরবরাহ ও রেশনিংয়ের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার কার্যকর পরিকল্পনা করতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির সম্ভাব্য অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বাংলাদেশ তার মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এর বড় অংশ আসে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকসহ উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশের তেল ও গ্যাসের মজুত দ্রুত কমে আসছে।
সূত্র জানায়, মার্চের শেষ দিকে দেশের প্রধান তেল শোধনাগারে প্রায় ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুত ছিল, যা দিয়ে সর্বোচ্চ ১৭ দিন চলা সম্ভব। বিভিন্ন বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, দেশে জ্বালানির মজুত এখন ১০ থেকে ২১ দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
রাজধানী ঢাকায় ইতোমধ্যে জ্বালানির জন্য দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবহন খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কমে গেছে গণপরিবহন চলাচল। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের যাত্রা বাতিল করতে হচ্ছে এবং পণ্য পরিবহনও ব্যাহত হচ্ছে।
সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার। রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানির অনুমোদন চাওয়া হয়েছে এবং ইন্দোনেশিয়া থেকেও কিছু জ্বালানি সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এসব জ্বালানির দাম আগের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন, কিছু অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে জ্বালানি মজুত ও সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।
তবে সরকার বলছে, দেশে কোনো জ্বালানি ঘাটতি নেই। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দাবি, আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত কেনাকাটার কারণেই চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হয় এবং সরবরাহ স্বাভাবিক না হয়, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এতে দেশের অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
