নিজস্ব প্রতিনিধি
মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের উদ্দেশে এক খোলা চিঠিতে যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) প্রকাশিত এই চিঠি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তার ব্যক্তিগত এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত খোলা চিঠিতে মার্কিন জনগণকে সরাসরি সম্বোধন করে বলেন, ইরানকে একটি “হুমকি” হিসেবে উপস্থাপন করা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, বরং এটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে তৈরি একটি বর্ণনা।
চিঠিতে তিনি দাবি করেন, প্রাচীন সভ্যতার দেশ ইরান তার আধুনিক ইতিহাসে কখনো আগ্রাসন বা উপনিবেশবাদের পথ বেছে নেয়নি। বরং আক্রমণের শিকার হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরানি জনগণ কখনোই অন্য দেশের জনগণের প্রতি শত্রুতা পোষণ করে না এবং সরকার ও জনগণের মধ্যে পার্থক্য করে দেখে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির সমালোচনা করে পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেন, ইরানের চারপাশে মার্কিন সেনা ও ঘাঁটির ঘনত্ব একটি হুমকির পরিবেশ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো আত্মরক্ষার অংশ, কোনো আগ্রাসন নয়।
চিঠিতে ১৯৫৩ সালের অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অতীত হস্তক্ষেপের সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, ওই ঘটনার মাধ্যমে ইরানের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদি অবিশ্বাসের সূচনা ঘটে।
এছাড়া, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা, ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় মার্কিন ভূমিকা এবং সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপেরও সমালোচনা করেন তিনি। পেজেশকিয়ান বলেন, এসব পদক্ষেপ ইরানকে দুর্বল করার বদলে শিক্ষা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতে উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
চিঠিতে সাম্প্রতিক সামরিক হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এই যুদ্ধ দ্বারা আমেরিকান জনগণের কোন স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে?” একই সঙ্গে বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলাকে তিনি “যুদ্ধাপরাধের শামিল” বলে উল্লেখ করেন।
ইসরায়েলের ভূমিকা নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে “প্রক্সি” হিসেবে জড়িত হয়েছে। তার মতে, ইসরায়েল একটি কথিত ইরানি হুমকি তৈরি করে অন্য ইস্যু থেকে বিশ্বকে সরিয়ে নিতে চায়।
চিঠির শেষ অংশে তিনি মার্কিন জনগণকে প্রচলিত তথ্যের বাইরে গিয়ে বাস্তবতা যাচাইয়ের আহ্বান জানান এবং ইরান সফর করে দেশটির বাস্তব চিত্র দেখার পরামর্শ দেন।
বিশ্ব যখন নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মুখে, তখন ইরানের প্রেসিডেন্টের এই খোলা চিঠি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং বৈশ্বিক জনমত প্রভাবিত করার কৌশল হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।
