বিশ্বের রাজধানী এবং বহুজাতিক নিউইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশিদের অবস্থান আরো জোরালোভাবে দৃশ্যমানের অভিপ্রায়ে শতাধিক সংগঠনের অংশগ্রহণে আগামী ১৭ মে রোববার নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হবে ‘বাংলাদেশ ডে প্যারেড’। প্যারেড সফল করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে আয়োজক কমিটি।

গত ২ মে সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসে ‘সানাই পার্টি’ সেন্টারে এক সুধী সমাবেশে প্যারেড কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৬৯ স্ট্রিট থেকে ৩৭ অ্যাভিনিউ ধরে এই প্যারেড যাবে ৮৭ স্ট্রিটে। প্যারেডে থাকবে বাঙালি সংস্কৃতির ফল্গুধারায় প্রবাহিত করার অবয়ব সম্বলিত ফ্লট, জনপ্রিয় শিল্পীরা নাচ-গানে মাতাবেন আশেপাশের ভিন্ন ভাষা-ভাষীদের।
আরো জানানো হয়, বিশ্বের চৌকষ পুলিশ বাহিনী হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্ক পুলিশে কর্মরত বাংলাদেশি আমেরিকানের সহস্রাধিক অফিসার প্যারেডের সামগ্রিক শান্তি-শৃঙ্খলায় নিয়োজিত থাকবেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিত্বকারিদের সমন্বয়ে গঠিত প্যারেড কমিটির পরিচিতি উপলক্ষে এ সমাবেশের সঞ্চালনা ও পরিচালনায় ছিলেন সদস্য-সচিব ফাহাদ সোলায়মান।

সূচনা বক্তব্যে অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী জানান, ইতিমধ্যেই ১২০টি সংগঠন রেজিস্ট্রেশন করেছে ব্যানার-ফেস্টুনসহ অংশ গ্রহণের জন্যে। আরো অনেকে রেজিস্ট্রেশনের অপেক্ষায় রয়েছেন। আর এভাবেই আমরা আশা করছি যে, এবারের প্যারেড প্রবাসীদের জমকালো একটি অনুষ্ঠানে পরিণত হবে এবং তার মধ্য দিয়ে বহুজাতিক সমাজে বাংলাদেশিদের অবস্থান আরো সুসংহত হবে-এটাই হচ্ছে আমাদের প্রত্যাশা।

প্যারেড কমিটির কনভেনর গিয়াস আহমেদ জানান, প্যারেডে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও থাকবেন বলে আশা করছি। এ সময় প্যারেডের অন্যতম গ্র্যান্ড মার্শাল এম আজিজ, প্যারেড কো-অর্ডিনেটর আব্দুস সোবহান, চিফ ইভেন্ড কো-অর্ডিনেটর ফেমড রকি, ম্যানেজিং ইভেন্ট পার্টনার ফয়সাল আজিজ, ডায়মন্ড স্পন্সর ‘এ্যাম্পায়ার কেয়ার এজেন্সি’র সিইও নুরুল আজিম এবং ডিজিটাল ট্র্যাভেলস-এস্টোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ও সিইও নজরুল ইসলাম, ইভেন্ড ডে প্রেসিডেন্ট রাশেক মালিক, চিফ ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মিয়া মোহাম্মদ দুলাল, উপদেষ্টা নাসির খান পল, আবুল ফজল দিদারুল ইসলাম, ফখরুল আলম, জেড আলম নমী, মঈনুজ্জামান চৌধুরী, আলাউদ্দিন ভুলু, শাকিল মিয়া, প্যারেডের থিম সং-এর গীতিকার হুমায়ূন কবীর ঢালিসহ অনেকেই মঞ্চে ছিলেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটিতে ৩ লাখের অধিক বাংলাদেশি রয়েছেন। প্রায় ৩০ হাজার সদস্যের প্রতিনিধিত্বকারি ‘বাংলাদেশ সোসাইটি’র কর্মকর্তারা বেশ কয়েকবার অঙ্গিকার করেছিলেন বিপুল অংশগ্রহণে একটি প্যারেড আয়োজনের। কিন্তু আজ পর্যন্ত তারা সেই অনুমতি সংগ্রহে সক্ষম হননি। এছাড়া এখন পর্যন্ত ম্যানহাটনে একটি প্যারেড করার অনুমতি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি কমিউনিটির কোনো পর্যায় থেকে। এমনি একটি পরিস্থিতির মধ্যে আমেরিকায় দক্ষিণ এশিয়ানদের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত নিউইয়র্কের এই জ্যাকসন হাইটসের প্যারেডকে স্মরণীয়-বরণীয় করতে আয়োজকরা চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে সুধী সমাবেশে জানানো হয়।
