নিজস্ব প্রতিনিধি
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি বহনকারী ছয়টি জাহাজ চলাচলে ইরানের অনুমোদন মিললেও, তালিকাভুক্ত অধিকাংশ এলএনজি চালান ইতোমধ্যেই বাতিল হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে।
বাংলাদেশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ছয়টি জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে ইরান সরকার। তবে এর মধ্যে পাঁচটি চালানই ইতোমধ্যে বৈশ্বিক সরবরাহকারীরা বাতিল করায় পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেহরানে পাঠানো জাহাজের তালিকাটি পুরোনো পরিকল্পনা ও নথির ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছিল। এতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে সরবরাহের জন্য তালিকায় পাঁচটি এলএনজি কার্গোর কথা উল্লেখ ছিল, যার চারটি কাতারএনার্জি এবং একটি এক্সিলারেট এনার্জির। কিন্তু পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আরফানুল হক নিশ্চিত করেছেন, এসব চালান এখন আর কার্যকর নেই।
তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির পর সরবরাহকারীরা তাদের চালান স্থগিত করায় তালিকাভুক্ত জাহাজগুলো কার্যত “অস্তিত্বহীন” হয়ে গেছে। তবুও কেন এসব তথ্য ইরানে পাঠানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয় বলেও জানান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ফোর্স মেজর কতদিন চলবে তা নিশ্চিত না থাকায় যুদ্ধ-পূর্ব আমদানির পরিকল্পনা অনুযায়ীই তালিকা পাঠানো হয়েছিল।
এদিকে, ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি জাহানাবাদি বলেন, বাংলাদেশের ছয়টি জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। তিনি বাংলাদেশকে বন্ধুপ্রতিম দেশ উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
এর আগে ১৫ মার্চ বাংলাদেশ সরকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমে জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইরানের কাছে কূটনৈতিক সহায়তা চায়। পরবর্তীতে ইরানের অনুরোধে ২৫ মার্চ ছয়টি জাহাজের একটি বিস্তারিত তালিকা পাঠানো হয়।
তবে ফোর্স মেজরের কারণে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় বাংলাদেশকে এখন উচ্চমূল্যের স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, এপ্রিল মাসের জন্য নয়টি এলএনজি কার্গো নিশ্চিত করা হয়েছে, যার মধ্যে আটটি স্পট মার্কেট থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ইতোমধ্যে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং তা বাতিলের আর সুযোগ নেই।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় রাশিয়া থেকে ডিজেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ ছাড় চেয়েছে বাংলাদেশ। ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এ অনুরোধ জানান।
সরকার ইতোমধ্যে কাজাখস্তান থেকে এক লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে, যা জ্বালানি সংকট সামাল দিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের অনুমোদন পাওয়া সত্ত্বেও বাস্তবে বাতিল হয়ে যাওয়া চালানের তালিকা পাঠানোর ঘটনায় জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়েছে। এতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
