নিজস্ব প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার মিরপুরে আবারো রাজনৈতিক সহিংসতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা অবস্থায় শফিকুল ইসলাম আজম (৫২) নামের এক আওয়ামী লীগ নেতাকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার আমলা ইউনিয়নের সদরপুর বাজারে ঘটা এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শফিকুল ইসলাম আমলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবসার দোকান থেকে বাইরে ডেকে আনে এবং মুহূর্তের মধ্যেই লক্ষ্যভ্রষ্ট না করে পরপর গুলি চালায়। হামলাকারীরা এতটাই বেপরোয়া ছিল যে, কাজ শেষে তারা ঘটনাস্থলে ম্যাগাজিন, তিন রাউন্ড গুলি এবং ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ফেলে রেখে আয়েশে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতির মাঝেই এমন ধৃষ্টতাপূর্ণ হামলা প্রমাণ করে, অপরাধীদের মনে আইনের কোনো ভয় অবশিষ্ট নেই।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শফিকুল ইসলামকে প্রথমে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) হোসেন ইমাম জানিয়েছেন, গুলি ডান চোখ, বাম চোয়াল এবং পেটের ওপরের অংশে আঘাত করেছে। পেটের ভেতরের রক্তনালী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে যেভাবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর নির্বিচার হামলা ও হত্যার মহোৎসব চলছে। কুষ্টিয়ার এই ঘটনাটি তারই ধারাবাহিকতা বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এভাবে দিনের আলোয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের চেষ্টা এবং নিরাপত্তার অভাব সাধারণ মানুষকেও শঙ্কার মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কঠোর নিরাপত্তার কথা বলা হলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষের জীবনের কোনো নিশ্চয়তা নেই।
মিরপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মাহমুদুল হক মজুমদার ঘটনার তদন্ত চলছে বলে দায়সারা মন্তব্য করলেও, ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। অপরাধীদের ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেল ও গুলির ম্যাগাজিন উদ্ধারের কথা জানালেও, তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে না পারা গোয়েন্দা নজরদারির ব্যর্থতাকেই স্পষ্ট করে।
একের পর এক হামলায় রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে, আইনশৃঙ্খলা কি পুরোপুরি অপরাধীদের কব্জায়?
শফিকুলের পরিবার ও দলীয় কর্মীদের দাবি, অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। অন্যথায় রাজপথে সাধারণ মানুষ আর কোনো হত্যাকাণ্ডের দায়ভার গ্রহণ করবে না।
