নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের সম্মিলিত শক্তিকে বিশ্বমঞ্চে এক বিশাল জনশক্তিতে রূপান্তরের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ভারতের ১৪০ কোটি এবং বাংলাদেশের ২০ কোটি জনসংখ্যাকে একসঙ্গে হিসাব করলে তা ১৬০ কোটিতে দাঁড়ায়। এই দুই গণতান্ত্রিক দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও যৌথ শক্তি আন্তর্জাতিকভাবে এক অপরাজিত বিশ্ব শক্তিতে পরিণত হতে পারে।
শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১১টার পর বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর নোম্যান্সল্যান্ডে তাকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভারতীয় হাইকমিশন ও বেনাপোল স্থলবন্দরের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা। এ সময় তার সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন তার স্ত্রী মৃণাল ত্রিবেদী।
হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশে এটিই তার প্রথম আগমন। নতুন কর্মস্থলে এসে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো একক শক্তি দিয়ে বড় অর্জন সম্ভব নয়। ভারত ও বাংলাদেশ মিলে যে যৌথ শক্তির প্রকাশ ঘটাবে, সেটিই হবে আসল শক্তি এবং পুরো পৃথিবী সেই শক্তির দিকে তাকিয়ে থাকবে।
দুই দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নয়ন নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারত এবং বাংলাদেশ উভয় দেশেই প্রচুর মেধাবী তরুণ রয়েছে। এই দুই দেশের মেধা ও সম্পদকে কাজে লাগিয়ে আগামী প্রজন্মের জন্য খেলাধুলা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে যৌথভাবে কাজ করার ব্যাপারে তিনি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সীমান্তে ‘পুশইন’ সমস্যা এবং দুই দেশের মধ্যে ভ্রমণ ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। হাইকমিশনার মন্তব্য করেন, ভারত ও বাংলাদেশ একই আকাশ-বাতাস ভাগাভাগি করে বেঁচে আছে। তাই দুই দেশের মানুষের জন্য যা কিছু কল্যাণকর ও মঙ্গলজনক, ভবিষ্যতে ঠিক সেই ধরনের পদক্ষেপই নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসে ভারত সরকার দেশটির সাবেক কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ও প্রবীণ বিজেপি নেতা দিনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত করে। দুই দেশের দীর্ঘ ৫৫ বছরের কূটনৈতিক ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো পেশাদার কূটনীতিকের পরিবর্তে একজন রাজনীতিবিদকে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানো হলো। তিনি বিদায়ী হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন, যিনি বর্তমানে ব্রাসেলসে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার নতুন দায়িত্ব পালন করছেন।
