বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস এবং টিকাদান কর্মসূচি বন্ধের কারণে হামের প্রকোপে সাড়ে ছয়শো শিশুর মৃত্যুর তীব্র সমালোচনা করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বিচারের দাবি জানিয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের নয়াদিল্লি থেকে সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’-কে দেওয়া এক দীর্ঘ ও একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই দাবি তোলেন।
শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কেবল টিকাদান কর্মসূচিই বন্ধ করেনি, বরং গোটা স্বাস্থ্য খাতকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ভিটামিন-এ ক্যাপসুল বিতরণ বন্ধ এবং সরকারি হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা সামগ্রীর তীব্র সংকটের কারণে দেশে হাম মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর দাবি, সব ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের মধ্যেই বাংলাদেশকে হাম-মুক্ত দেশ হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তুতি ছিল, যা বর্তমান সরকারের অবহেলায় ভেস্তে গেছে।
“দেশরত্ন শেখ হাসিনা একদিন ফিরবেন” সৈয়দা রাজিয়া মোস্তফা
সাক্ষাৎকারে মুহাম্মদ ইউনূসের নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেওয়ার দাবি প্রসঙ্গে সরাসরি মন্তব্য না করলেও তাঁর নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনা। প্রতিরোধযোগ্য রোগে শত শত শিশুর মৃত্যুর জন্য বর্তমান সরকারকে দায়ী করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, স্বাস্থ্য খাতের বাজেটের ৪২ হাজার কোটি টাকা কোথায় গেল।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে বিএনপি ও জামায়াতকে ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান সরকারের ১০০ দিনের তুলনা করেন তিনি।
রাজনীতিতে ‘অন্য শক্তি’ বা অগণতান্ত্রিক শক্তির উত্থানের আশঙ্কা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা সতর্ক করেন যে, বন্দুকের জোর, মামলা-হামলা কিংবা মব দিয়ে সাময়িকভাবে ক্ষমতা ধরে রাখা গেলেও জনগণের আস্থা ছাড়া রাষ্ট্র চালানো সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো শাসকের দয়ায় গড়ে ওঠেনি এবং জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের মধ্য দিয়েই এই দলটির জন্ম। নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হয়েই তিনি আবার দেশে ফিরবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
