নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই শহীদদের সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত আখতারুজ্জামান নাঈমকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে সরকারি গেজেটে তাকে আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, অন্যদিকে সমসাময়িক সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়, তিনি রাজধানীর একটি আবাসিক হোটেলের ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং পরে হাসপাতালে মারা যান।

সরকারি গেজেট অনুযায়ী, ৪৩ বছর বয়সী আখতারুজ্জামান নাঈমের নাম ‘জুলাই শহীদ’ তালিকার ৩০২ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গেজেটে তার পিতা হিসেবে আব্দুর রব মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নের পণ্ডিতবাড়ির তথ্য দেওয়া হয়েছে।
গেজেটে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই মিরপুর-১ এলাকায় ছাত্রদের সঙ্গে অবস্থানকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে তিনি নিহত হন। বর্ণনায় বলা হয়, বিকেল ৩টার দিকে একটি গুলি তার মাথার পেছনে বিদ্ধ হয়ে সামনের অংশ দিয়ে বেরিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। সেখানে আরও উল্লেখ রয়েছে, ঘটনার আগে মায়ের সঙ্গে তার আবেগঘন কথোপকথন হয়েছিল।
তবে ওই সময়ের একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আখতারুজ্জামান নাঈম রাজধানীর মিরপুরের ‘ঢাকা প্যালেস’ নামের একটি আবাসিক হোটেলের অংশীদার ও ইনচার্জ ছিলেন। ২৬ জুলাই তিনি বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। পরদিন রাতে পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ নিতে থাকেন।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, ২৭ জুলাই রাতের দিকে নাঈমের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগও হয়েছিল। পরে তাদের জানানো হয়, তিনি হোটেলের ছয়তলা থেকে পড়ে আহত হয়েছেন এবং তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
সে সময় পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। নাঈমের স্ত্রীর অভিযোগ ছিল, ছাদ থেকে পড়ে গেলে শরীরের অন্যান্য অংশেও গুরুতর আঘাত থাকার কথা। কিন্তু তার মাথার পেছনে গুরুতর জখম থাকলেও অন্যত্র তেমন আঘাতের চিহ্ন ছিল না। পোস্টমর্টেম রিপোর্টেও মাথায় আঘাতের বিষয়টি উল্লেখ ছিল বলে দাবি করা হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, হোটেলের ছাদ থেকে পড়ে নিহত হওয়া ব্যক্তি এবং সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত ‘জুলাই শহীদ’ আখতারুজ্জামান নাঈম একই ব্যক্তি। এসব পোস্টে পিতার নাম ও স্থায়ী ঠিকানার মিলকে এর পক্ষে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
