খুশির ঈদের রেশ কাটতে না কাটতেই তেলের জ্বালায় পুড়ছে সাধারণ মানুষ। মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে ধামরাই কিংবা সুদূর চট্টগ্রামের ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা গিয়েছে একই ছবি— মাইলের পর মাইল বাইক আর গাড়ির দীর্ঘ সারি।
অনেক পাম্পের সামনে ঝুলছে ‘তেল নেই’ লেখা বোর্ড। কোথাও বা নামমাত্র পেট্রোল মিললেও ডিজেল আর অকটেনের ভাঁড়ার শূন্য। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের আবহে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আমজনতার ‘প্যানিক বায়িং’ বা আগাম মজুত করার হিড়িকই কি এই কৃত্রিম সংকটের নেপথ্যে? প্রশ্নটা এখন মুখে মুখে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় অবশ্য দাবি করছে, দেশে তেলের কোনও ঘাটতি নেই। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার টন ডিজেল মজুত আছে, যা দিয়ে অনায়াসেই আগামী ১৪ দিন চলা সম্ভব। অকটেন ও পেট্রোলের মজুতও পর্যাপ্ত।
মন্ত্রীর দাবি, অহেতুক আতঙ্কে মানুষ ট্যাঙ্কি ফুল করতে ভিড় জমানোর ফলেই পাম্পগুলো সামাল দিতে পারছে না। তবে পাম্প মালিকদের বয়ান অন্য কথা বলছে। তাঁদের অভিযোগ, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় মাত্র এক-তৃতীয়াংশ তেল মিলছে। কোথাও আবার মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় পাম্প বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লোহিত সাগরে অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে আমদানিতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডলার সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের চড়া দাম।
যদিও সরকার বলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, তবুও ধামরাইয়ের মতো এলাকায় ৭টির মধ্যে ৫টি পাম্পই বন্ধ থাকায় জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। গণপরিবহন কমে যাওয়ায় ভোগান্তি চরমে। বাজার বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, দ্রুত এই ‘সাপ্লাই-ডিমান্ড গ্যাপ’ মেটানো না গেলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আরও এক দফা লাফিয়ে বাড়তে পারে।
