বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে নারী অধিকার ও ক্ষমতায়ন নিয়ে দলগুলোর বাগাড়ম্বর তুঙ্গে থাকলেও বাস্তবের চিত্র বেশ ভিন্ন। বিশেষ করে এনসিপি এবং জামায়াতে ইসলামীর মতো দলগুলোর বিরুদ্ধে নারীদের কেবল ‘ভোটের প্রচার যন্ত্র’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। গত নির্বাচনে একটি আসনেও নারী প্রার্থী না রাখা সেই দাবির পালে হাওয়া দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, প্রগতিশীলতার বুলি আওড়ানো এনসিপি নারীদের মিছিলে শামিল করলেও ক্ষমতার অলিন্দে তাঁদের জায়গা দিতে নারাজ।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি আরও রহস্যময়। একদিকে তারা নারী নেতৃত্বকে ‘না-জায়েজ’ বলে প্রচার করে, অন্যদিকে ভোটের প্রয়োজনে সেই নারীদেরই দ্বারে দ্বারে পাঠায়। আপনার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তাবলীগী কায়দায় নারীদের হাতে পবিত্র কুরআন শরীফ দিয়ে প্রচার চালানো হলেও দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাঁদের কোনো ভূমিকা নেই। হাজার হাজার পুরুষের সামনে নারীদের মিছিল করানো বা স্লোগান দেওয়ানো যদি ‘হারাম’ না হয়, তবে নেতৃত্বে বসানো কেন বাধা—এই প্রশ্ন এখন জনমনে।
অনলাইনে জামায়াতপন্থী ‘বট’ বা পরিচয়হীন আইডিগুলোর আচরণ নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। ভিন্নমতের ওপর ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং কুরুচিপূর্ণ গালিগালাজ কোনোভাবেই ইসলামের শান্তির বার্তার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। সমালোচকদের দাবি, ইসলামের দোহাই দিয়ে রাজনীতি করলেও এদের কর্মকাণ্ডে অনেক সময় পরমতসহিষ্ণুতার অভাব দেখা যায়। ১৯৭১ সালের বিতর্কিত ভূমিকা থেকে শুরু করে বর্তমানের জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতি—সব মিলিয়ে এদের ধর্মীয় লেবাসের আড়ালে ‘রাজনৈতিক ভণ্ডামি’র অভিযোগ এখন তুঙ্গে।
