বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘকাল ধরে অমীমাংসিত জামাত-ই-ইসলামির বিচার প্রক্রিয়া এবার পৌঁছে গেল মার্কিন মুলুকে। দলটির অতীত সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্তদের কাঠগড়ায় তুলতে মার্কিন পার্লামেন্টে (কংগ্রেস) একটি বিশেষ প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা গ্রেগ ক্যাসার (Greg Casar)। এই পদক্ষেপের ফলে জামাত ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন কূটনীতিকরা।
গ্রেগ ক্যাসার তাঁর প্রস্তাবে স্পষ্ট জানিয়েছেন, অতীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হওয়া মানুষদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক আইনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর মতে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ রোধ করতে দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ সরকারের এই সংক্রান্ত যে কোনও উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন দেওয়া উচিত বলেও তিনি মনে করেন।
মার্কিন এই আইনপ্রণেতা আরও যোগ করেন, মানবাধিকার রক্ষা কোনো নির্দিষ্ট দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়। তাই এই প্রস্তাবটি গৃহীত হলে আন্তর্জাতিক স্তরে নতুন করে আলোচনার পথ প্রশস্ত হবে এবং অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে জনমত তৈরি হবে। গ্রেগ ক্যাসারের এই সাহসী পদক্ষেপকে ইতিমধ্যেই মানবাধিকার কর্মীরা স্বাগত জানিয়েছেন, যদিও রাজনৈতিক মহলে এর অভিঘাত নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন কংগ্রেসে এই প্রস্তাব উত্থাপন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক বড়সড় মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে জামাতের বিচারের দাবি উঠলেও নানা আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতায় তা বারবার থমকে গিয়েছে। এখন ওয়াশিংটনের এই তৎপরতা যদি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবে পরিণত হয়, তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বা সমগোত্রীয় বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন প্রাণ সঞ্চার হতে পারে।
তবে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে। একাংশ মনে করছেন, এটি নিছকই মানবাধিকার রক্ষার তাগিদ; অন্য অংশের দাবি, এর পেছনে গভীর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ থাকতে পারে। প্রস্তাবটি বর্তমানে আলোচনার পর্যায়ে থাকলেও এটি গৃহীত হলে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে আমেরিকার হস্তক্ষেপের মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এই প্রস্তাব জামাতের ভাগ্য নির্ধারণে কতটা সহায়ক হয়, এখন সেটাই দেখার।
