নিজস্ব প্রতিনিধি
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নে ধর্মীয় আচার পালনের সময় শঙ্খ ও উলুধ্বনি দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক হিন্দু নারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি সম্প্রতি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় এলাকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুড়িরচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের একটি হিন্দু পরিবারে নিয়মিত ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শঙ্খ ও উলুধ্বনি দেওয়া হচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, এই শব্দে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ওই পরিবারকে বাধা প্রদান করে। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ওই নারীর ওপর হামলা চালায় এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও শ্লীলতাহানি করে।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সংগঠন এবং মানবাধিকার কর্মীরা সরব হয়েছেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং নারীর ওপর এমন বর্বরোচিত হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনরা তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছেন। অনেকেই দেশজুড়ে সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান নানা নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
উল্লেখ্য, হাতিয়া অঞ্চলটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হান্নান মাসুদের নির্বাচনী এলাকা। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি জামায়াতের মিত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়েছেন। সংসদ সদস্যের নিজ এলাকায় এ ধরনের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
