দীর্ঘ দেড় দশক পর কি তবে ইতিহাসের চাকা ঘুরল? ২০০৭ সালের সেই সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্যতম দাপুটে মুখ এবং বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে ‘শারীরিক ও রাজনৈতিকভাবে পঙ্গু’ করার মূল কারিগর হিসেবে অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সোমবার গভীর রাতে বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ১/১১-র এই ‘মাস্টারমাইন্ড’-এর পতনকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক বড়সড় মোড় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বিএনপির অভিযোগ, ২০০৭ সালের ৭ মার্চ মইনুল রোডের বাসভবন থেকে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তারের পর মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর নির্দেশেই চালানো হয়েছিল অমানুষিক নির্যাতন। টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে হাত-পা বেঁধে উঁচু স্থান থেকে ফেলে দেওয়ায় তাঁর মেরুদণ্ডের হাড় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সেই সময় স্ট্রেচারে শুয়ে তারেক রহমানের আদালতে হাজিরা দেওয়ার ছবি আজও আন্তর্জাতিক মহলে চর্চিত। গত ১৫ বছর ধরে লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকার নেপথ্যে মাসুদের সেই ‘টার্গেট’ ছিল বলেই দাবি দলের। অভিযোগ রয়েছে, দেশের দুই প্রধান নেত্রীকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’র অন্যতম স্থপতি ছিলেন তদানীন্তন এই ক্ষমতাধর সেনাকর্তা।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ১/১১-র অন্য কুশীলবরা কোণঠাসা হলেও মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন ব্যতিক্রম। উল্টে তাঁকে পুরস্কার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মহাজোটের সাংসদ হিসেবেও ক্ষমতা ভোগ করেন তিনি। বিএনপির দাবি, তারেক রহমানকে পঙ্গু করার ‘পুরস্কার’ হিসেবেই হাসিন সরকার তাঁকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছিল। তবে ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি বদলেছে। তারেক নির্যাতনের ঘটনায় গঠিত বিশেষ তদন্ত কমিটির নালিশি মামলায় এবার কাঠগড়ায় উঠতে হচ্ছে এই প্রাক্তন জেনারেলকে।
