নিজস্ব প্রতিনিধি
আজ ২৪ মার্চ। বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম বিস্ময়, বাংলাদেশ ক্রিকেটের পোস্টার বয় এবং সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের জন্মদিন। মাঠের ২২ গজে বল ও ব্যাট হাতে যিনি বিশ্বের বড় বড় দলকে শাসন করেছেন। আজ সেই কিংবদন্তি জীবনের ৩৮তম বছরে পা রাখলেন। তবে এবারের জন্মদিনটি তার জন্য একেবারেই অন্যরকম—উচ্ছ্বাস নয়, বরং একরাশ বিষণ্নতা আর আক্ষেপের জন্মদিনে পরিণত হয়েছে এটি
ইউনুস সরকারের শাসন আমলে সাকিবকে বাংলাদেশের জার্সি পরে খেলতে দেয়নি সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। মূলত তাকে মিথ্যা মামলায় আসামি করে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অন্ধকারের পথে এগিয়ে দিয়েছেন ইউনুস-আসিফ গং।
ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই একসময় বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হিসেবে রাজত্ব করেছেন সাকিব। আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের চূড়ায় তার অবস্থান ছিল এক অনন্য দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশ দলকে বহু অবিস্মরণীয় জয় উপহার দিয়েছেন তিনি। বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে তার চাহিদা ছিল তুঙ্গে। ব্যাট-বলের জাদুতে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশের অবিসংবাদিত ‘পোস্টার বয়’।
তবে খেলার মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি গত কয়েক বছর ধরে রাজনীতির মাঠে সাকিব ছিলেন অন্যতম আলোচিত চরিত্র। আওয়ামী লীগ সরকারের গত মেয়াদে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। তার এই রাজনৈতিক অভিষেকের পর থেকেই মাঠের পারফরম্যান্স ও রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে এক ধরনের বৈপরীত্য তৈরি হয়। দেশের সংকটময় সময়ে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সাথে তার সম্পৃক্ততা সাধারণ মানুষের স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির বড় একটি অংশের মাঝে আশার জন্ম দেয়।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাকিবের রাজনৈতিক পরিচয় তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। কথিত জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে সাকিব এখন এক পরবাসে থাকা একজন মানুষ। তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। দেশের বাইরে থাকা অবস্থায় তাকে মিথ্যা মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। যার ফলে তার ক্যারিয়ারের শেষ সময়টা অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ঢেকে গেছে।
সাকিবের ভক্ত-অনুরাগীদের একটি বড় অংশ মনে করেন, খেলার মাঠে তিনি দেশের জন্য যা করেছেন, তার বিপরীতে বর্তমান পরিস্থিতিতে তার সাথে ‘বিচারবহির্ভূত’ আচরণ করা হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, খেলোয়াড় হিসেবে তার অবস্থান রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে হওয়া উচিত ছিল।
দেশের বাইরে বর্তমানে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন সাকিব। প্রিয় জন্মভূমিতে আজ যখন তাকে ঘিরে উৎসব হওয়ার কথা ছিল, তখন তিনি খেলছেন একাকীত্বের লড়াই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার দুয়ার তার জন্য আজ কার্যত রুদ্ধ। ব্যাট-বল হাতে গ্যালারি মাতানো সেই সাকিব আল হাসান আজ যেন মাঠের বাইরের এক ‘অসহায়’ মানুষ।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সাকিবের অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু রাজনীতি ও মাঠের খেলার এই জটিল রসায়নে পড়ে আজ তিনি এক ট্র্যাজিক হিরো। তার জন্মদিনে প্রশ্ন একটাই—সাকিব কি আর কখনো প্রিয় মাতৃভূমির মাটিতে লাল-সবুজ জার্সি গায়ে নামতে পারবেন? নাকি রাজনীতির এই মারপ্যাঁচে চিরতরে হারিয়ে যাবে দেশসেরা এই ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার?
তার জন্মদিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্তরা শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। দলীয় নেতা কর্মীরাও লিখেছন, ‘শুভ জন্মদিন সাকিব আল হাসান।’ অনিশ্চয়তার এই সময়ে ভক্তদের একটাই প্রার্থনা—তিনি যেন তার মেধা ও যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন পান এবং সকল সংকটের অবসান ঘটিয়ে মাথা উঁচু করে ফিরতে পারেন।
