পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অনন্য পুরস্কার। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর এই দিনটি আনন্দ-উৎসবের পাশাপাশি গভীর ইবাদত ও শুকরিয়া আদায়ের সুযোগ করে দেয়। তবে ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা নবীজির (সা.) শেখানো সুন্নাহ ও সঠিক মাসআলা অনুযায়ী পালিত হয়।
ঈদের দিনের প্রস্তুতি শুরু হয় সকালের কিছু সুন্নত আমলের মাধ্যমে। মিসওয়াক করা, গোসল করা, সামর্থ্য অনুযায়ী নতুন বা পরিচ্ছন্ন পোশাক পরা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা এর অন্তর্ভুক্ত। বিশেষ করে ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে যাওয়ার আগে বিজোড় সংখ্যক খেজুর বা মিষ্টি জাতীয় কিছু খাওয়া সুন্নাহ। নামাজের জন্য এক পথ দিয়ে যাওয়া এবং অন্য পথ দিয়ে বাড়ি ফেরা রাসুলুল্লাহর (সা.) প্রিয় আমল।
ঈদের নামাজ বড় ময়দান বা খোলা মাঠে আদায় করা সুন্নত। তবে বৃষ্টি বা জায়গার সংকট থাকলে মসজিদে জামাত করায় কোনো বাধা নেই। নামাজের আগে বা পরে ঈদগাহে কোনো নফল নামাজ পড়া মাকরুহ। তবে নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে চার রাকাত নফল পড়া মুস্তাহাব। নিয়তের ক্ষেত্রে দীর্ঘ বাক্য বলার প্রয়োজন নেই; মনে মনে ‘এই ইমামের পেছনে ঈদের ওয়াজিব নামাজ আদায় করছি’—এতটুকু সংকল্পই যথেষ্ট।
নামাজ শেষে খুতবা শোনা ওয়াজিব। অনেকে খুতবা না শুনেই উঠে যান, যা শরিয়তসম্মত নয়। খুতবা চলাকালীন পূর্ণ নীরবতা পালন করতে হবে। এছাড়া ঈদের দিন জুমাবার হলে অনেকে মনে করেন ঈদের নামাজ পড়লে জুমা লাগে না—এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। ঈদ ওয়াজিব এবং জুমা ফরজ; তাই দুটিই আলাদাভাবে আদায় করতে হবে।
ঈদের দিনের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো শুভেচ্ছা বিনিময়। সাহাবায়ে কেরাম একে অপরকে ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’ বলে দোয়া করতেন। বর্তমানে প্রচলিত ‘ঈদের মুসাফাহা’ বা কোলাকুলি করাকে নামাজের অংশ মনে করা যাবে না। তবে দীর্ঘদিনের বিচ্ছেদ বা আন্তরিকতা প্রকাশে এটি করা জায়েজ। সঠিক মাসআলা মেনে বিভ্রান্তি এড়িয়ে ঈদ পালন করলেই তা মহান আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হবে।
