নিজস্ব প্রতিনিধি : সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেড় বছরের শাসনামলে নেওয়া বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ, বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নজিরবিহীন অসম বাণিজ্য চুক্তি (ART) স্বাক্ষর, উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই বোয়িংয়ের সাথে ৪৫ হাজার কোটি টাকার উড়োজাহাজ ক্রয় এবং খামখেয়ালিপনায় শিশুদের হামের টিকা বন্ধ করে দেশজুড়ে শিশু মৃত্যুর মহামারি তৈরির মতো স্পর্শকাতর অভিযোগ এখন সামনে এসেছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (ART)’ বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে ড. ইউনূসের সরকার। ৩২ পৃষ্ঠার এই দলিলের আইনি ভাষা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এতে ‘শ্যাল’ (বাধ্যতামূলক) শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে ১৭৯ বার। এর মধ্যে বাংলাদেশের ওপর বাধ্যবাধকতা চাপানো হয়েছে ১৩১ বার, অথচ পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে তা মাত্র ৬ বার! বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো সমতার চুক্তি নয়, বরং মার্কিন আধিপত্য প্রতিষ্ঠার এক দাসত্বমূলক দলিল। এই চুক্তির ফলে মার্কিন কৃষিপণ্য, গাড়ি ও ডিজিটাল কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের বাজারে বিনাশর্তে একচেটিয়া সুবিধা দিতে হবে।
গবেষণা সংস্থা সিপিডির (CPD) তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশকে ৭,১৩২টি মার্কিন পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রায় পুরোপুরি তুলে দিতে হবে, যার মধ্যে ৪,৯২২টি পণ্যের শুল্ক তাৎক্ষণিকভাবে শূন্যে নেমে আসবে। এর ফলে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে। পোশাক রপ্তানিতে সামান্য সুবিধা মিললেও তার বিপরীতে বাংলাদেশকে মার্কিন তুলা ও সুতা চড়া দামে কিনতে হবে।
