খুশির ইদ দোরগোড়ায়। সারা বছর হাড়ভাঙা খাটুনির পর এক টুকরো মাংসের আশায় তিল তিল করে টাকা জমিয়েছিলেন বগুড়া পুর এলাকার মালগ্রাম চাপড়পাড়ার প্রায় ১২০০ সাধারণ মানুষ। কিন্তু সেই আশার গুড়ে বালি! ‘মাংস সমিতি’র নাম করে গরিব মানুষের প্রায় ৭৭ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে সপরিবারে উধাও এলাকার এক প্রভাবশালী জামাত নেতা। উৎসবের প্রাক্কালে এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক প্রতারণার শিকার হয়ে এখন কান্নায় ভেঙে পড়েছেন শত শত নিম্নবিত্ত পরিবারের মহিলারা।
তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত জামাত নেতা তথা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের আঞ্চলিক সম্পাদক আব্দুল হাকিম তাঁর দুই সঙ্গী আকরাম ও শাহীনকে নিয়ে ‘ফোর স্টার সঞ্চয় সমিতি’ নামে একটি সংস্থা খুলেছিলেন। নিয়ম ছিল, সারা বছর ধরে ন্যূনতম পাঁচ হাজার টাকা জমা করলে ইদের আগে প্রত্যেক গ্রাহককে আট কেজি করে গরুর মাংস দেওয়া হবে। স্থানীয়রা আব্দুল হাকিমের রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর ভরসা করেই তাঁদের অতি কষ্টের সঞ্চয় তুলে দিয়েছিলেন তাঁর হাতে। এভাবেই ১২০০ সদস্যের জমানো টাকার অঙ্ক ছাড়িয়ে যায় ৭৭ লক্ষ।
কথা ছিল গত ১৬ মার্চ মাংস বিলি করা হবে। কিন্তু সদস্যরা নির্দিষ্ট সময়ে মাংস নিতে এলে তাঁদের পরের দিন আসতে বলা হয়। অভিযোগ, ১৭ মার্চ থেকেই উধাও আব্দুল হাকিম ও তাঁর সহযোগীরা। সমিতির কার্যালয়ে ঝুলছে তালা, পরিচালকদের মোবাইল ফোনও বন্ধ। ইদের ঠিক আগে এমন সর্বনাশা খবরে এলাকায় হাহাকার পড়ে গিয়েছে। পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তবে অভিযুক্তরা গা ঢাকা দেওয়ায় তাঁদের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আপাতত চোখের জলেই ইদ কাটানোর প্রহর গুনছে মালগ্রামের এই অসহায় পরিবারগুলি।
