দীর্ঘ দেড় দশক পর বাংলাদেশে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটেছে বিএনপির। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠ বলছে অন্য কথা। ক্ষমতার অলিন্দে যখন উৎসবের মেজাজ, তখন দলের অন্দরেই চওড়া হচ্ছে ‘স্থবিরতার’ ছায়া। সরকারের গুরুদায়িত্ব সামলাতে গিয়ে খোদ রাজপথের সেনাপতিরাই এখন সচিবালয়ের চার দেওয়ালে বন্দি।
দলের অন্দরের খবর, বিএনপির প্রথম সারির প্রায় সব নেতাই এখন সাংসদ বা মন্ত্রী। কেউ কেউ আবার সামলাচ্ছেন প্রশাসকের দায়িত্ব। ফলে মাঠের রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে এক বিশাল শূন্যতা। রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাও যেন কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছেন। এই ‘অর্গানাইজেশনাল ভ্যাকুয়াম’ বা সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটাতে এবার খোদ দলীয় হাইকমান্ড নড়েচড়ে বসেছে।
সূত্রের খবর, আসন্ন ঈদুল ফিতরের ছুটিকেই দল পুনর্গঠনের প্রাথমিক আলোচনার মঞ্চ হিসেবে বেছে নিয়েছেন তারেক রহমান। সরকারের শত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি দলের জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক শুরু করতে চলেছেন। লক্ষ্য একটাই—যাঁরা মন্ত্রী বা সরকারি পদে আছেন, তাঁদের বদলে সংগঠনের পদে নতুন মুখ আনা। কারণ, ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতি কার্যকর না করলে সরকার ও দল—দুই নৌকা সামলানো কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিএনপির অন্দরে এখন সবথেকে বড় আলোচনার বিষয় হলো জাতীয় কাউন্সিল। ২০১৬ সালের পর দীর্ঘ ১০ বছর কাটলেও কেন্দ্রীয় কাউন্সিল হয়নি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর যা হওয়ার কথা ছিল। তারেক রহমান এখন পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান। তাই তাঁর নেতৃত্বেই আগামী কয়েক মাসের মধ্যে একটি জাঁকজমকপূর্ণ কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। সেখানে বড়সড় রদবদল হতে পারে বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও নির্বাহী কমিটিতে।
শুধু মূল দল নয়, ছাত্রদল, যুবদল থেকে শুরু করে মহিলা দল—সবগুলো অঙ্গসংগঠনেরই এখন ‘মেয়াদোত্তীর্ণ’ দশা। যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন কিংবা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী—সবাই এখন জনপ্রতিনিধি। ফলে এই সংগঠনগুলোতে নতুন ও তরুণ নেতৃত্ব আনার দাবি জোরালো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব থেকে শুরু করে দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ঈদের পরেই এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দৃশ্যমান হবে।
বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক তথা ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করায় এখন মূল লক্ষ্য জনসেবা। তবে দল পুনর্গঠনের বিষয়টি সম্পূর্ণ তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সরকারের সাফল্যের পাশাপাশি রাজপথের জৌলুস ধরে রাখাই এখন তারেক রহমানের সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।
