শামীম আহমেদ
জুলাই ষড়যন্ত্রকারী যারা দাবী করেছিল যে তারা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে, তার ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে – তাদের কতজন সংসদে জামাতের জাতীয় সঙ্গীতের সময় উঠে না দাঁড়ানোর প্রতিবাদ করে বক্তৃতা বিবৃতি দিয়েছে? কতজন সরকারী সমর্থনে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের জন্য শোক প্রস্তাবের প্রতিবাদ জানিয়ে শাহবাগ কিংবা কাঁটাবনে প্ল্যাকার্ড হাতে আর্তনাদ করেছে?
কোথায় সেই আসিফ নজরুল, সালেহউদ্দিন আহমেদ, আদিলুর রহমান, তৌহিদ হাসান, রিজওয়ানা হাসান, শারমিন মুরশিদ, আল্লামা খালিদ হোসেন, ফরিদা আখতার, নাহিদ, আসিফ, মাহফুজ, সুপ্রদীপ চাকমা, ফারুক-ই-আজম, ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, ফাওজিল কবির, আলী ইমাম মজুমদার, জাহাঙ্গীর আলম, বশির উদ্দিন, মোস্তফা ফারুকী?
কোথায় তৈয়ব, আশিক, আলী রীয়াজ, মনির হায়দার, খলিল, লুৎফে, লামিয়া, শফিকুল?
কোথায় এখন তাদের শেখ হাসিনা ও ফ্যাসিস্ট মুক্ত মুক্তিযুদ্ধ প্রেম? কোথায় সেসব শাহবাগী যারা কথায় কথায় প্ল্যাকার্ড, ব্যানার, ফেস্টুন হাতে নিয়ে রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে যেত, ফেইসবুকের পাতা রমরমা করে ফেলত? তাদের মুক্তিযুদ্ধ প্রেম কি এখন ডলারের ফাঁকে গুঁজে রাখা গোলাপের শুকনো পাতা হয়ে গেছে?
“মুক্তিযুদ্ধ কারও বাবার না বলে” শীৎকার করা কোথায় সেই বুদ্ধিবেশ্যার দল? তাদের আসমান কিংবা শাউয়া কিছুই কি আর এখন কাঁপে না? কোথায় সেই শিক্ষক-সাংবাদিক-সম্পাদক যারা নবারুণের সেই অমর বাণী “এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না” উক্তিকে বলাৎকার করে পাকিবীর্যদের স্বার্থ উদ্ধার করেছে?
এদের প্রত্যেকের চাইতে জামাতে ইসলামী ভালো; কারণ তারা সেই ৭১ থেকে এখনও বাংলাদেশ বিরোধী। অচেনা বন্ধুর চেয়ে চেনা শত্রু অনেক ভালো। জামাতকে আমরা চিনি। চিনতাম। কিন্তু উপরের ভন্ড, মুনাফেক, ডলারখোরদের চিনতাম না। “চেনা বামুনের পৈতা লাগে না” ভেবে তারা তাদের পাকি বাবাদের হয়ে আমাদের দেশকে লুটে নিয়েছে।
জামাত থেকে নয় – বরঞ্চ এদের থেকেই বেশী সতর্ক থাকুন।
