গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বৃন্দাবন এলাকায় সড়কের পাশ থেকে দগ্ধ মরদেহ উদ্ধারের ১৬ দিন পর চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। ঋণের টাকা পরিশোধ না করায় এক যুবককে শ্বাসরোধে হত্যার পর পরিচয় মুছে দিতে পেট্রল ঢেলে লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ভয়াবহ তথ্য সামনে এসেছে।
সোমবার রাতে গাজীপুর জেলা পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রধান আসামিসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত যুবকের নাম আতিকুর রহমান (৩২), তিনি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বাসিন্দা।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন ইমরান হাসান, টুটুল হাসান, নাজমুল, কামাল হোসেন, রুহানুল ইসলাম রুহান ও আকবর। এদের মধ্যে প্রধান আসামি ইমন হাসান ইতিমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
তদন্তে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে বৃন্দাবন এলাকার আঞ্চলিক সড়কের পাশে আগুনে পোড়া একটি অজ্ঞাত পরিচয় মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রযুক্তির সহায়তায় মরদেহের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি ঘাতকদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানিয়েছে, নিহত আতিকুর ও তাঁর পরিবার আসামি নাজমুলের সমিতি থেকে কয়েক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। টাকা পরিশোধ না করে আতিকুর আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হন পাওনাদাররা।
পরবর্তীতে আতিকুরকে খুঁজে বের করে শ্রীপুরের মুলাইদ এলাকায় নাজমুলের বাড়িতে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে কাঁঠালপাতার বস্তায় ভরে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরিচয় গোপন করতে বস্তার ওপর পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যান ঘাতকরা। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছির আহমদ জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
