ফোরটিন ডেস্ক : ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় দুই দশক আগে মারা যাওয়া এক শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর ও ব্যাংক হিসাব জালিয়াতি করে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন ও আত্মসাৎ করার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মহিউদ্দিনের দিকে।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, তজুমদ্দিনের মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৯৯৪ সালে জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন মো. মহিউদ্দিন নামের এক ব্যক্তি। পরবর্তীতে ওই শিক্ষকের মৃত্যু হলে পদটি শূন্য হয়ে যায়। তবে একই নাম হওয়ার সুযোগ নিয়ে ২০০৬ সালে তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী জামায়াত নেতা মো. মহিউদ্দিন বিধিবহির্ভূতভাবে ওই মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৫ সালে শিক্ষক নিবন্ধন চালু হওয়ার বিষয়টি গোপন রেখে তিনি মারা যাওয়া সেই শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে টানা ২০ বছর ধরে সরকারি এমপিওর টাকা উত্তোলন করতে থাকেন। সম্প্রতি ২০২৬ সালের জুন মাসের এমপিও কপিতেও মৃত শিক্ষকের হিসাব নম্বর থেকে টাকা তোলার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার বর্তমান সুপার মাওলানা মো. নুরুজ্জামান মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মাদ্রাসার সুপার জানান, “আমি প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর এই বিশাল জালিয়াতির বিষয়টি আমার নজরে আসে। বিগত ২০ বছরে সরকারের লাখ লাখ টাকা অনৈতিকভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই সরকারি অর্থ উদ্ধার করা জরুরি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জামায়াত নেতা মহিউদ্দিন বলেন, “হিসাব নম্বর এক হলেও ওই অ্যাকাউন্ট থেকে বেতন তোলা হয়নি।” তবে তিনি প্রকৃতপক্ষে কোন অ্যাকাউন্ট থেকে বেতন তুলতেন, তার সদুত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে তজুমদ্দিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রেজাউল করিম জানান, অভিযোগের বিষয়ের নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্তে জালিয়াতির সতত্যা পাওয়া গেলে আত্মসাৎকৃত সরকারি অর্থ উদ্ধারসহ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
