ফোরটিন ডেস্ক : বিএনপির নির্বাচনী প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলোর অন্যতম সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নের প্রাথমিক ধাপে কার্ড প্রস্তুত ও উপকারভোগী বাছাইয়ে মোট খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা। তবে কর্মসূচির শুরুতেই শুধু প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানের পেছনে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
সরকারি বাজেট সংকোচনের মধ্যে একটি অনুষ্ঠানে এত টাকা বরাদ্দ রাখাকে ‘খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, “৫০ কোটি টাকা দিয়ে অনেক মানুষকে সরাসরি সহায়তা দেওয়া যেত। উদ্বোধনী আয়োজনেই যদি এত বিপুল অর্থ খরচ হয়, তবে কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যে আঘাত আসে।” তবে প্রকল্প পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেনের দাবি, ৫০ কোটি টাকা বাজেটে রাখা হলেও সম্পূর্ণ অর্থ খরচ না-ও হতে পারে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের ‘সোশ্যাল প্রটেকশন ফর ইম্প্রুভড রেজিলিয়েন্স, ইনক্লুশন অ্যান্ড টার্গেটিং’ (এসএসপিআইআরআইটি) প্রকল্পের মূল অনুমোদন ছিল ৯০৪ কোটি টাকার। কিন্তু ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি যুক্ত করায় প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে ২ হাজার ৮১৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা করা হয়েছে, যা পরে সংশোধন ও পুনর্বিন্যাস করে ফ্যামিলি কার্ড অংশে ১ হাজার ৯০৯ কোটি টাকায় আনা হয়।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেটে আলাদা বরাদ্দ না থাকায় থোক বরাদ্দ থেকে ১ হাজার ৫১১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা স্থানান্তরের অনুরোধ জানিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।
খাতওয়ারি প্রস্তাবিত বাজেটে দেখা যায়:
- কার্ড প্রস্তুত ও বিতরণ: ৪১ লাখ মানুষের স্মার্ট কার্ডের জন্য ৫৫০ কোটি ৮২ হাজার টাকা।
- যন্ত্রপাতি ক্রয়: তথ্য সংগ্রহের জন্য ৬৬,৮১৫টি ট্যাব ও ৫টি সুপার কম্পিউটার কিনতে ২২১ কোটি ৩২ লাখ টাকা।
- মাঠ জরিপ ও জনবল: ৬০ হাজার জরিপকারী নিয়োগসহ তথ্য সংগ্রহে ৬৭৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
- প্রশিক্ষণ ও তদারকি: সেমিনারে ৮০ লাখ, প্রশিক্ষণে ৪ কোটি ৭০ লাখ এবং তদারকিতে ৮ কোটি টাকা।
আগস্ট মাসের মধ্যেই তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে সারা দেশের ৪১ লাখ প্রকৃত সুবিধাভোগী পরিবার চিহ্নিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
