নতুন একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হওয়ায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের কারামুক্তি এখনই সম্ভব হচ্ছে না।
শনিবার (১৪ মার্চ) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ সংক্রান্ত আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আগামী ৩০ মার্চ দিন ধার্য করেন।
জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় মাদ্রাসাছাত্র মো. আরিফ নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন আদালত গ্রহণ করায় আপাতত খায়রুল হকের মুক্তির প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে গেছে।
সিএমএম আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মহিন উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দায়ের করা পাঁচটি মামলায় জামিন পান সাবেক এই প্রধান বিচারপতি। এর মধ্যে গত ৮ মার্চ চারটি এবং ১১ মার্চ একটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন মঞ্জুর করা হয়।
এসব মামলার একটি ছিল জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী হত্যার অভিযোগে করা মামলা। অন্য মামলাগুলো করা হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত রায়ে জালিয়াতির অভিযোগে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ১৯ জুলাই সকাল ৯টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকার বউবাজার সড়কে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিতে মাদ্রাসাছাত্র আরিফ নিহত হন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট নিহতের বাবা মো. ইউসুফ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৪৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
এর আগে গত বছরের ২৪ জুলাই সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সেদিন রাতেই জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে একই বছরের ২৯ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে বেআইনি রায় দেওয়া ও জাল রায় তৈরির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় করা আরেক মামলায় তাকে ভার্চ্যুয়ালি গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
