আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নতুন নারী সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তি’–এর আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির নেতারা বলছেন, নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও অধিকার রক্ষার লক্ষ্যেই এই সংগঠন গঠন করা হয়েছে।
রোববার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংগঠনটির আহ্বায়ক হিসেবে মনিরা শারমিন, সদস্য সচিব মাহমুদা মিতু এবং মুখ্য সংগঠক হিসেবে নুসরাত তাবাসসুমের নাম ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির নেতা নাহিদ ইসলাম ও সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নারী নেত্রী ও কর্মীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়া নারী সদস্যদের একত্রিত করেই এই সংগঠন গঠন করা হয়েছে। সংগঠনটির লক্ষ্য নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, অধিকার রক্ষা এবং দলীয় কাঠামোতে নারীদের ভূমিকা বাড়ানো।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ এসেছে এমন এক সময় যখন এনসিপির সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জোট গঠনের পর দলের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়। বিশেষ করে কয়েকজন নারী নেতা এই জোটের বিরোধিতা করে পদত্যাগ করেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এনসিপি জামায়াতসহ ১০ দলীয় একটি জোট গঠন করে। ওই জোট ঘোষণার পর আট দিনের মধ্যে দলের ১৩ জন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন নারী নেত্রী জামায়াতকে নারীবিরোধী ও রক্ষণশীল দল হিসেবে উল্লেখ করে জোটের সমালোচনা করেন।
জোটের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দলের কিছু নারী নেতা দলত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচনে অংশ নেন। নারী প্রার্থীদের মনোনয়ন না দেওয়া এবং নারীদের নেতৃত্ব নিয়ে জামায়াত আমীরের মন্তব্য নিয়েও সমালোচনা তৈরি হয়।
এই প্রেক্ষাপটে এনসিপি নতুন নারী সংগঠন ঘোষণার মাধ্যমে অবশিষ্ট নারী সদস্যদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সমালোচকদের মতে, এটি দলীয় সংকট মোকাবিলার একটি কৌশলও হতে পারে। তাদের মতে, নতুন সংগঠন গঠনের মাধ্যমে দলীয় বিভাজন কিছুটা কমানো সম্ভব হলেও জামায়াতের সঙ্গে জোট নিয়ে নারী ভোটারদের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা পুরোপুরি দূর করা সহজ হবে না।
