বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। তবে ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বিএনপি প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালন করেছিল। সেই অনুষ্ঠানে দলটির নেতারা শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের ঐতিহাসিক গুরুত্বও স্বীকার করেছিলেন।
কিন্তু পাঁচ বছর পর রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। বর্তমানে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা বিএনপির আমলে ৭ মার্চকে ঘিরে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংসদের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অপর দুই আসামি হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসিফ আহমেদ সৈকত ও আব্দুল আল মামুন। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, শাহবাগ এলাকায় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো হচ্ছিল—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
এ ঘটনা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ ২০২১ সালে বিএনপি নিজেই আনুষ্ঠানিকভাবে ৭ মার্চ পালন করেছিল। সে সময় জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপি নেতারা বলেছিলেন, ৭ মার্চের ভাষণ ঐতিহাসিক এবং সে সময় জনগণকে স্বাধীনতার সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
ইতিহাসবিদদের মতে, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্ত। এই ভাষণকে ২০১৭ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
এদিকে ২০২৬ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে ৭ মার্চ উদযাপন না হওয়া এবং ভাষণ বাজানোকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন ঘটনার কারণে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মওলা রনি মনে করেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু গোষ্ঠী ইস্যুটি ব্যবহার করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। তার মতে, সরকার যদি এসব ঘটনায় স্পষ্ট অবস্থান না নেয়, তাহলে বিষয়টি আরও বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।
