ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। শনিবার গভীর রাতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই এসটিএফের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানায়, দুই বাংলাদেশি নাগরিক চাঁদাবাজি ও হত্যাসহ গুরুতর অপরাধ সংঘটনের পর অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, তারা সীমান্তবর্তী বনগাঁ এলাকায় আশ্রয় নিয়ে আবার বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছিল।
এসটিএফের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদিকে হত্যার পর ফয়সাল ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায় এবং মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। ভারতীয় সূত্র বলছে, তারা গত মাসের ১০ তারিখে সীমান্ত পার হয়, যা বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে।
পরে ভারতের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করার পর তারা পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকায় অবস্থান নেয়। সেখান থেকেই অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাদের বিরুদ্ধে ভারতে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়। তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং নির্বাচনকে ঘিরে ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছিল।