শিবির আবরারের জন্য শোক মিছিল থেকেই মূলত ছাত্রলীগের দুর্বলতা প্রকাশ পেতে শুরু করে। সেদিন (অক্টোবর ২০১৯) ছাত্রলীগের উচিৎ ছিলো বুয়েটের কমিটি না ভেঙ্গে আবরারের জঙ্গি কানেকশন সামনে নিয়ে আসা।
এর ঠিক এক বছর আগের (২০১৮) কোটাবিরোধী আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ছিলো সরকার পতনের বড় ধরনের ড্রেস রিহার্সাল। এই আন্দোলনে ছাত্রলীগের যারা আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ছিলো, তারা পরবর্তীতে ছাত্রলীগের বড় বড় পদে আসে। এভাবেই উৎসাহ দেওয়া হয় ২০২৪ সালের জুলাই ষড়যন্ত্রের বীজ বপনের। ছাত্রলীগ হয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গেলে যদি ডাকসুর ভিপি থেকে শুরু করে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় বড় পদে যাওয়া যায়, তাহলে তো বেইমানিই ভালো! কীসের আবার আদর্শিক আনুগত্য?
এরপর থেকেই মূলত আমাদের পতনের দিনক্ষণ নির্ধারণ হয়ে যায়। আর ছাত্রলীগের পতন মানে আওয়ামী লীগসহ গোটা দেশের পতন। এজন্য চব্বিশের জুলাইয়ে যথাক্রমে জাবি, রাবি ও ঢাবি ক্যাম্পাস একযোগে শিবিরের দখলে নেওয়া হয়।
কারণ ছাত্রলীগ যতক্ষণ আছে, ততক্ষণ বাংলাদেশ নিরাপদ, দেশের স্থিতিশীলতা নিরাপদ- আর এটি ভালো করেই জানতো বাংলাদেশবিরোধী জঙ্গিবাদী শক্তিগুলো। এজন্য বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে ২০১৫ সাল থেকেই প্রতিটি ক্যাম্পাস দখলে নিতে শুরু করে জঙ্গিবাদী ইসলামী ছাত্রশিবির। আর চরিত্রহননের টার্গেট করতে থাকে ছাত্রলীগের মোস্ট পটেনশিয়াল ও ইন্টেলেকচুয়াল কর্মীগুলোকে।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের এক টালমাটাল সন্ধ্যায় আমাকে ছাত্রলীগের মুখোশ পরিহিত গুপ্ত শিবিরের চক্রান্তে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছেড়ে দিতে হয়েছিলো। পেছনে ফেলে আসতে হয়েছিলো জীবনের সমস্ত সম্ভাবনাকে। গুপ্ত শিবির এই জায়গায় সাংগঠনিকভাবে অসাধারণ সাফল্য পেয়েছিলো। আর সারা দেশের ছাত্রলীগের সবাইকে ক্যাম্পাস থেকে বের করতে গুপ্ত শিবির সময় নেয় আরও ৫ বছর! এরপরের ইতিহাস ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগসহ গোটা একটি জাতিরাষ্ট্রের মানুষের হাজার বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকারের ইতিহাস!
লেখকঃ হামজা রহমান অন্তর
