নিজস্ব প্রতিবেদক
অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায় নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলেও এখনও দৈনিক জনকন্ঠ দখলে রেখেছে এনসিপি নেতা জয়নাল আবেদিন শিশির ও জামায়াতপন্থী সাংবাদিক নেতা মীর জসিম ধরে রেখেছেন দৈনিক জনকন্ঠের দখল।
বিএনপি সরকার গঠনের পরে হাতিয়ার ধষর্ণের ঘটনাসহ নানা ধরণের গুজব ছড়িয়েছে যাচ্ছে জনকন্ঠের ফেসবুক পেজ।
ত্রায়োদশ জাতীয় নির্বাচনের কিছুদিন আগে দখলকৃত জনকন্ঠের প্ল্যানিং এডিটর শিশিরের সাথে এক টকশো’তে বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর বলেন, ‘৫ আগস্টের পর এনসিপির পরিচয়ে জনকণ্ঠ পত্রিকা দখল করে জয়নাল আবেদীন শিশির উপদেষ্টা সম্পাদক হয়েছে।’
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্র দৈনিক জনকণ্ঠ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন সময়ে পত্রিকাটিতে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি পরিচয়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মীরা ২০২৫ সালের ৪ আগস্টে সম্পাদককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে দখলে নেয়।
এরপর নিজেরাই একটি সম্পাদকীয় বোর্ড গঠন করে তাঁরা মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে ঢাকার হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা করেছেন।
সেসময় জনকণ্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশক শামীমা এ খান ষড়যন্ত্র করে জনকণ্ঠ ভবনে ‘মব সৃষ্টি করে অবৈধভাবে দখলের’ অভিযোগ করেছেন।
তাঁর এ অভিযোগ গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের চিফ অপারেটিং অফিসার অবসরপ্রাপ্ত মেজর আফিজুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও পত্রিকাটির প্লানিং অ্যাডভাইজর জয়নাল আবেদীনসহ (শিশির) বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামপন্থী কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে।
আফিজুর রহমান ও জয়নাল আবেদীন শিশির উভয়েই বিবিসি বাংলার কাছে জনকণ্ঠ দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
জয়নাল আবেদীন বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘দখলের অভিযোগ আওয়ামী লীগ ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য। আমরা এখনো মালিকানা ও প্রকাশনায় নেই। পরিচালনার জন্য শুধু একটা বোর্ড করেছি। কর্মরত সব সাংবাদিকের সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
এদিকে আজ রোববার সকাল থেকেই পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণে প্রিন্টার্স লাইনে সম্পাদক ও প্রকাশকের নাম দেখা যাচ্ছে না। এর বদলে লেখা হচ্ছে, ‘সম্পাদকমণ্ডলী কর্তৃক গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের সদস্য প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে গ্লোব প্রিন্টার্স লি: ও জনকণ্ঠ লি: থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত’।
এর আগে গত রাতে জনকণ্ঠ ভবনের সামনে এক সমাবেশে মীর জসিম নামের একজন নিজেকে নতুন সম্পাদকীয় বোর্ডের একজন হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘জনকণ্ঠ ও সম্পাদক হিসেবে যিনি আছেন, তাঁকে সম্পাদকের পদ থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। তবে তিনি প্রকাশক হিসেবে থাকবেন। তাঁর দুই ছেলেকে জনকণ্ঠে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সালে আতিকউল্লাহ খান মাসুদ পত্রিকাটি প্রতিষ্ঠার পর এটি একসময় পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছিল। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের সময় যাঁরা বাংলাদেশবিরোধী রাজাকার-আলবদর-আলশামস বাহিনীর সদস্য ছিলেন, তাঁদের নিয়ে ‘সেই রাজাকার’ শিরোনামে সিরিজ প্রকাশ করে আলোচনায় এসেছিল।
