নিজস্ব প্রতিনিধি
কথিত গণঅভ্যুত্থানের কথিত ‘মাস্টারমাইন্ড’ খ্যাত এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও পরবর্তীতে তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্বরত মাহফুজ আলমের আচরণে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শাহাদাত হোসেন সেলিম। মাহফুজ আলমের সাথে ছবি তুলতে গিয়ে অনীহা এবং ‘দৃষ্টিকটু’ আচরণের শিকার হয়ে সহকর্মীদের সামনে তিনি অপমানিত হয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক স্ট্যাটাসে দাবি করেছেন।
শাহাদাত হোসেন সেলিম বর্তমানে বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সংসদ সদস্য (লক্ষ্মীপুর-১)। উল্লেখ্য যে, এই ঘটনার সময় তিনি এলডিপি-র মহাসচিব হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে শাহাদাত হোসেন সেলিম লিখেছেন, মাহফুজ আলম নামটি আন্দোলনের আগে তিনি না শুনলেও তার বাবা বাচ্চু মোল্লা তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন। বাচ্চু মোল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। ছাত্র আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে বাচ্চু মোল্লা গ্রেপ্তার হলে সেলিম নিজ উদ্যোগে থানার ওসির সাথে কথা বলে তাকে মুক্ত করেছিলেন। এমনকি মাহফুজ বিশেষ সহকারী নিয়োগ পাওয়ার পর আনন্দের আতিশয্যে বাচ্চু মোল্লার বাসায় মধ্যাহ্নভোজের আয়োজনে অতিরিক্ত ১০ কেজি মাংস ও আলু রান্নার ফরমাশও দিয়েছিলেন তিনি।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সেলিম জানান, ড. ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে মাহফুজ আলম উপস্থিত থাকলেও কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে অবস্থান করছিলেন। শাহাদাত হোসেন সেলিম সেখানে মাহফুজের সাথে একটি ছবি তুলতে চাইলে মাহফুজ তাতে স্পষ্ট অনীহা প্রকাশ করেন। সেলিমের দাবি, মাহফুজের সেই আচরণ ছিল অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। যা তাকে কেবল বিস্মিতই করেনি বরং উপস্থিত সহকর্মীদের সামনে তাকে অপদস্থ করেছে।
শাহাদাত হোসেন সেলিমের এই ফেসবুক পোস্টটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একজন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেতার সাথে সাকে সরকারের তরুণ নীতিনির্ধারকের এই ধরনের আচরণকে অনেকেই ‘উদ্ধত’ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে মাহফুজের বাবার সাথে সেলিমের গভীর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকার পরও এমন আচরণে নেটিজেনদের মাঝেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
শাহাদাত হোসেন সেলিম বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত এবং সম্প্রতি নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তার এই অভিযোগটি রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
